ঋণের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ

আর্থিক খাতে ঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কারণ এর ব্যত্যয় ঘটলে সমগ্র আর্থিক খাতের ওপর বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি এবং এ খাতের সুশাসনকে বাধাগ্রস্ত করে। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ থেকে এসংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানে ঐ প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সুশাসন রক্ষায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের বিতরণকৃত ঋণের অর্থ নির্দিষ্ট খাতে বিনিয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। নতুন ঋণের মাধ্যমে কোনো গ্রাহক আগের অন্য কোনো ঋণ পরিশোধ করছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি কিস্তিভিত্তিক প্রকল্প ঋণের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী কিস্তির সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে পরবর্তী কিস্তি ছাড় না করা বর্তমান সময়ে অত্যাবশ্যকীয় পরিপালনীয় হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। ঋণের সদ্ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং তদারকির বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ঋণ নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ঋণের সদ্ব্যবহার-সংক্রান্ত সরেজমিন পরিদর্শনে কোনো গুরুতর অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে তা তাত্ক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগকে অবহিত করতে হবে।

দেশে বর্তমানে ৩৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কয়েকটি বাদে বেশির ভাগের অবস্থাই খারাপ। বিশেষ করে ১০টি প্রতিষ্ঠানের অবস্থা খুবই খারাপ। খারাপের মাত্রা এমন পর্যায়ে যে, ঐ সব আর্থিক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। এর অন্যতম উদাহরণ হলো পিপলস লিজিং। এই প্রতিষ্ঠানকে অবসায়নের জন্য অবসায়ক নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ও বিআইএফসিতে চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে আদালত। ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অনিয়ম-দুর্নীতি অনুসন্ধানে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটিও গঠন করে দিয়েছে আদালত।

Comments