করোনার মধ্যেই চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাচ্ছেন খালেদা জিয়া!

করোনার মধ্যেই চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাচ্ছেন খালেদা জিয়া!

উন্নত চিকিৎসায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার লন্ডন যাওয়া নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে। বেগম জিয়ার পারিবারিক ও দলের সূত্র বলছেন, লন্ডন যেতে পারেন তিনি। তবে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি নিয়ে তিনি বিদেশ যেতে চান না। উচ্চ আদালতে আবারও জামিন চাইবেন বিএনপিপ্রধান। সেখানে জামিন পেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাওয়ার চিন্তাভাবনা করবেন।

অবশ্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘বেগম জিয়াকে যে দুই শর্তে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, তাতে তার দেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।’ টানা ২৫ মাস কারাবন্দী থাকার পর চলতি বছরের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে ছয় মাসের জন্য জামিনে মুক্তি পান সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। ২৪ সেপ্টেম্বর তাঁর জামিনের মেয়াদ শেষ হবে। মানবিক কারণ ও বয়স বিবেচনায় খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হয়। শর্তে বলা হয়- বেগম জিয়া তাঁর ঢাকার বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন ও বিদেশে যেতে পারবেন না। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী এ সিদ্ধান্তের কথা সরকার জানায়। বিএনপিসূত্রে জানা যায়, খালেদা জিয়া এ আদেশের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করবেন। এ নিয়ে কাজ শুরু করেছে বিএনপি। এরই মধ্যে দলের বেশ কয়েকজন আইনজীবীর সঙ্গে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। খালেদা জিয়ার হয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হতে পারে। পাশাপাশি তাঁর স্থায়ী জামিনের জন্য আইনজীবীরা চেষ্টা চালাচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে খালেদা জিয়ার আইনজীবী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘বেগম জিয়া উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাবেন কিনা সেটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। তবে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মুক্তি দেওয়া হয়েছে। করোনার কারণে ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যায়নি। তাঁর সম্পূর্ণ চিকিৎসা হয়নি। প্রয়োজনবোধে আবারও সরকার মানবিক কারণে তাঁর মুক্তির সময়সীমা বাড়াতে পারে। তবে এর জন্য আবেদন করতে হবে। সেটা পরিবার করতে পারে।’

এদিকে বেগম জিয়ার পরিবারের সদস্যরা জানান, আপাতত বাসায় থেকেই তাঁর লন্ডনে থাকা পুত্রবধূ ডা. জোবায়দা রহমানের পরামর্শে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি। এটাই চলবে। তা ছাড়া বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ দলের সিনিয়র চিকিৎসকের একটি দল বেগম জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর রাখছেন। বেগম জিয়ার সেজ বোন সেলিমা ইসলাম  বলেন, ‘কেউ কেউ গুজব ছড়াচ্ছে খালেদা জিয়া লন্ডন যেতে পারবেন না। এমন কোনো তথ্য আমাদের জানা নেই। তা ছাড়া ঢাকা-লন্ডন দুই জায়গায় প্রাণঘাতী করোনা ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করছে । এ মুহূর্তে তাঁর সু চিকিৎসা প্রয়োজন।’

সূত্র জানান, কয়েকদিন আগে বেগম খালেদা জিয়ার এক ঘনিষ্ঠজন তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা হয়। একপর্যায়ে চিকিৎসার বিষয়টি আলোচনায় এলে ঘনিষ্ঠ ওই নেতা জানতে চান, ‘আপনার যে শারীরিক অবস্থা তাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারে কিছু ভাবছেন কিনা।’ জবাবে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ‘দেশে এবং বিশ্বের যে পরিস্থিতি তাতে এ মুহূর্তে যাওয়া ঠিক হবে কি না ভাবছি।’ ওই নেতা  জানান, আপাতত চেয়ারপারসন বিদেশ যেতে পারেন, তা তাঁর মনোভাব দেখেই বোঝা গেছে।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার সাংবাদিকদের বলেন, ‘বেগম জিয়া কোথায় যাবেন? লন্ডন, সেখানেও তো দ্বিতীয় ধাপে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।  ৭৪-ঊর্ধ্ব বেগম খালেদা জিয়া আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, চোখ ও দাঁতের নানা সমস্যায় ভুগছেন। তাঁর হাত ও পায়ের গিরায় গিরায় ব্যথাও আছে। মুক্তির পর এখনো খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা শুরু হয়নি। করোনার কারণেই তা সম্ভব হচ্ছে না। খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় দলীয় চিকিৎসকের সমন্বয়ে একটি টিম রয়েছে। তাঁদের এক-দুজন নিয়মিত তাঁর শারীরিক অবস্থার ফলোআপ করছেন। এ ছাড়া পুত্রবধূ ডা. জোবায়দা রহমান নিয়মিত তাঁর চিকিৎসার তদারকি করছেন। করোনা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নতুন করে চিকিৎসা শুরু করবেন তিনি। গণমাধ্যমে খবর আসে- সম্প্রতি খালেদা জিয়া এবং তাঁর গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম ব্রিটিশ ভিসা নিয়েছেন।

Comments