করোনা মোকাবিলায় একজন বিচক্ষণ শেখ হাসিনা ও আমাদের মিডিয়া

করোনা মোকাবিলায় একজন বিচক্ষণ শেখ হাসিনা ও আমাদের মিডিয়া

ছোট্ট ভূখন্ড,  অতিরিক্ত জনসংখ্যা আর সীমিত সম্পদের বাংলাদেশে করোনা বড্ড ভয়ংকর। আবার ঘুর্ণিঝড় আম্পানের রেশ না কাটতেই বন্যার কবলে দেশ। এত সংকটের মাঝেও বাতিঘর হয়ে আলো দেখাচ্ছেন একজন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংকট ও দুর্যোগ মোকাবিলায় তাঁর যোগ্য নেতৃত্বের প্রশংসা উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। অথচ বাংলাদেশের কয়েকটি মিডিয়া ছাড়া প্রায় সব মিডিয়াই চুপ প্রধানমন্ত্রীর এতসব উদ্যোগ ও দূরদর্শী কার্যক্রমের ব্যাপারে। দুঃখজনক হলেও সত্য, করোনা ও সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা কয়েকটি মিডিয়া ছাড়া বাকি মিডিয়ায় এসছে ঠিক উপরের ছবিটির মত।

অদৃশ্য করোনা আঘাত আনার পর সংক্রমণ এড়াতে গোটা দেশে তাৎক্ষণিক সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর ফলে জনজীবনে নেমে আসে স্থবিরতা, থমকে যায় অর্থনীতি। শুধু বাংলাদেশেই নয়, করোনা পাল্টে দিয়েছে গোটা বিশ্ব অর্থনীতির চাল-চিত্র।হিমশিম খাচ্ছে বিশ্বের শক্তিধর অর্থনীতির দেশগুলোও। কিন্তু বাঁধার দেয়াল ভেঙ্গে সীমিত সম্পদ নিয়েও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রুখে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। সংকট মোকাবিলায় দেশের বিভিন্ন খাতে মোট প্রায় ১ লাখ ১ হাজার ১১৭ কোটি টাকার ১৮টি আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন তিনি।

সাধারণ ছুটির দিনেও বিরামহীন ব্যস্ততায় সময় কাটিয়েছেন তিনি। রাতদিন এক করে গণভবন থেকে কাজ করে গেছেন তিনি। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন সমগ্র দেশে, নিজে তদারকি করেছেন সবকিছু। লড়াকু শেখ হাসিনার প্রশংসা দেশের গন্ডি ছাড়িয়েছে অনেক আগেই। কমনওয়েলথের মহাসচিবের কন্ঠেও ছিল শেখ হাসিনার প্রশংসা, প্রশংসা এসেছে বিশ্ব বিখ্যাত ফোর্বস ম্যাগাজিনেও।

করোনা মহামারীতে ফ্রন্টলাইন ফাইটার চিকিৎসকদের উজ্জীবিত করা ছিল প্রথম চ্যালেঞ্জ। সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেননি শেখ হাসিনা। চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী সবার জন্য ঘোষণা করেছেন প্রণোদনা।

সম্ভাব্য খাদ্য সংকট সামাল দিয়েছেন একটি মাত্র ঘোষণায়। দলীয় নেতা-কর্মী সবাই মাঠে নেমে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন শেখ হাসিনার নির্দেশে।  ঘুর্ণিঝড় আম্পান মোকাবিলায় গণভবনে রাত জেগে মাঠ প্রশাসনের নেতৃত্ব দিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে সারাদেশে। ত্রাণ দেয়া হয়েছে দেড় কোটিরও বেশি মানুষকে।ত্রাণ কাজে দুর্নীতি ও অনিয়ম রুখেছেন তিনি কঠোরভাবে। পবিত্র রমজানে দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করেছেন বিচক্ষণতায়। ঈদে ৫০ লাখ পরিবারের মোবাইল একাউন্টে পাঠিয়েছেন  নগদ সহায়তা।

এত সংকটের মাঝেও দেখা দিয়েছে আরেক নতুন সংকট বন্যা। প্লাবিত হচ্ছে নিম্নাঞ্চল। প্রধানমন্ত্রীও জানালেন দীর্ঘায়িত হতে পারে বন্যা, কিন্তু হাল ছাড়ার নাবিক তো তিনি নন। বন্যা কবলিত ৩১ টি জেলায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে তাঁর নির্দেশনায় অব্যাহত রয়েছে ত্রাণ সহায়তা, নগদ সহায়তা। গঠন করা হয়েছে ৯০১ টি মেডিকেল টীম, খোলা হয়েছে ১ হাজার ৬০৩ টি আশ্রয় কেন্দ্র, আশ্রিত আছেন ৮৯ হাজারের বেশি মানুষ।

বিরামহীন একের পর এক নিত্য নতুন সংকট মোকাবিলা করছেন তিনি। অসম্ভব প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা আর মেধা কাজে লাগিয়ে দেশকে আগলে রেখেছেন মায়ের আঁচলে। তবুও যেন নাম নেই আমাদের মিডিয়ায়। খুব অল্প ক’টি মিডিয়াতেই এসেছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এতসব কার্যক্রম ও পরিশ্রমের বর্ণনা। উপরের ছবির মত বেশিরভাগ মিডিয়াই রয়েছে নীরব, কিংবা নামমাত্র  প্রচার করছেন আংশিক কিছু। মিডিয়ার এমন ট্যারা চোখের আচরণ দেখে মনে হয় তারাও বুঝি আজ কাঠের চশমা পড়েছে!

Comments