কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা হাসপাতালে করোনায় মৃত্যু ১৯

কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা হাসপাতালে করোনায় মৃত্যু ১৯

গত ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে করোনায় ১৩ জন ও উপসর্গে আরও ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলায় করোনায় মৃত্যু রেকর্ড এটিই সর্বোচ্চ। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার এম এ মোমেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সরকারি হিসাব মতে এনিয়ে জেলায় সর্বমোট মৃত্যু সংখ্যা ২২৮।

হাসপাতালের আরএমও ডাক্তার তাপস কুমার সরকার জানান, করোনা ডেডিকেটেড এ হাসপাতালে রোগী ধারণের জায়গা নেই। ২৫০ শয্যার হাসপাতালে এখন রোগী আছে ভর্তি ২৭৩। বেডের চেয়ে রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় মেঝে ও বারান্দায় ভর্তি রোগীর চিকিৎসা চলছে।

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৬০৯টি নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে নতুন করে ১৯৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৩১ দশমিক ৬৯ ভাগ। এ নিয়ে জেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৮ হাজার ৪৭৫ জনে। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৫ হাজার ৬৮৯ জন।

রোগীর বাড়তি চাপে চিকিৎসা সেবা ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। হাসপাতালে নেই অক্সিজেন সিলিন্ডার রিজার্ভ ব্যবস্থা। ফলে মাঝে মাঝে সিলিন্ডার অক্সিজেন সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। হাসপাতালে ১০ বেডের সঙ্গে সংযুক্ত সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থাসহ ৫৫০টি অক্সিজেন সিলিন্ডারেই চলছে করোনা রোগীর চিকিৎসা। তবে অনেকটা সিলিন্ডার নির্ভর অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় রোগীর চিকিৎসা হচ্ছে ব্যাহত। এতে প্রয়োজনমত উচ্চ মাত্রার অক্সিজেন অভাবে হঠাৎ রোগীর অবস্থার অবনতি হচ্ছে। ফলে সংকটাপন্ন অবস্থায় রোগীর স্বজনদের সামনেই প্রচণ্ড শ্বাসকষ্টে রোগী মারা যাচ্ছে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার তাপস কুমার সরকার জানান, ভর্তি রোগীর মধ্যে অন্তত ১৫০ থেকে ১৭৫ রোগীর অক্সিজেন প্রয়োজন হচ্ছে। এছাড়া অনন্যরা অধিক সংকটাপন্ন ও আইসিইউতে স্থানান্তরযোগ্য। তবে এ জেনারেল হাসপাতালে সংকাটপন্ন রোগীর চিকিৎসায় নেই ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ)।

হাসপাতালের আরএমও ডাক্তার তাপস কুমার সরকার জানান, অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থাপনার উন্নতিতে ৬০টি বেড সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহের সঙ্গে সংযুক্ত করার কাজ চলছে। খুব শিগগিরই এ বেডগুলো চালু হবে।

Comments