ক্যাসিনো সাংবাদিক লাবলুর আরেক কু-কর্ম

ক্যাসিনো সাংবাদিক লাবলুর আরেক কু-কর্ম

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন ঢাকা উদ্যান বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ এর অফিসে বেআইনী ভাবে প্রবেশ করে ভাংচুর, ও লুটপাট করেন ক্যাসিনো ব্যবসায়ী সাংবাদিক মাহবুব আলম লাবলু। একই সঙ্গে অফিসের দায়িত্বরতদের মারধোর ও ছুরিঘাত করেন এবং অস্ত্র ঠেকিয়ে হুমকি দেন সমিতির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের। এই ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ভূক্তভোগীরা। 

মামলা সূত্রে জানা যায়, ৬ নভেম্বর রাত ৯টা ৫০ মিনিট সময়ে  “ঢাকা উদ্যান বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ” এর অফিসে বেআইনী ভাবে প্রবেশ করে ভাংচুর, জখম ও ৫ লাখ টাকা সমমূল্যের মালামাল লুটপাট করেন, এবং অফিসের দায়িত্বরতদের অস্ত্র ঠেকিয়ে হুমকি দেন। এই ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় ১৪৩, ৪৪৮, ৩২৩, ৩৭৯, ৪২৭, ৫০৬ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। 

এই ঘটনায় “বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন” (ক্র্যাব) তার পক্ষে বিবৃতি দিয়েছে। তবে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক ক্র্যাবের একাধিক নেতৃবৃন্দ বলেন, মাহবুব আলম লাবলু ক্র্যাবের সদস্য বলে তার পক্ষে সংগঠন বিবৃতি দিয়েছে। কিন্তু বার বার তার কারনে সংগঠনের সুনাম নষ্ট হবে তা তো হতে পারে না। আমরা এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেছি। প্রয়োজনে ক্যাসিনো লাবলুর সদস্য পদ বাতিল হতে পারে। 

ক্যাসিনো ব্যবসায়ী সাংবাদিক নামধারী লাবলু আছেন বহাল তবিয়তে!

টানা দুই বছর বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবসা পরিচালনা করেছেন সাংবাদিক নামধারী মাহবুব আলম লাবলু।বাংলাদেশে অনলাইন ক্যাসিনোর জনক হিসাবেই পরিচিত তিনি। দুর্নীতি ও ক্যাসিনো ব্যবসা আর সাংবাদিকতার নাম ভাঙ্গিয়ে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। নিজ এলাকা মানিকগঞ্জে ভূমিদস্যুতা ছাড়াও রয়েছে সরকারী  হালট দখল করে বাড়ির সীমানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ।

প্রকাশ্যেই প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছেন তিনি।

পুলিশ বলছে, অপরাধীর পেশা বড় কথা নয়, অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকলে যে কোন সময়ই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।

রাজধানীর পল্টনের প্রীতম জামান টাওয়ারে ক্রিস্টাল-১৮৬ ডটকম নামের অনলাইন গেমসের অনুমোদন অনলাইনে জুয়ার আসর চালাচ্ছিল প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. মাহবুব আলম লাবলু। ২০১৮ সালে ১৯শে ফেব্রুয়ারি সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। লাবলু ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনে কর্মরত ছিলেন। ক্যাসিনো ব্যবসা ও দুর্নীতির দায়ে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি থেকে তার চাকরি চলে যায়।

২০১৮ সালের ১৯শে ফেব্রুয়ারি এক প্রতিবেদনে পল্টন থানার সেসময়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হক লেখেন, প্রীতম-জামান টাওয়ারের ১৪ ও ১৫ তলায় ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেলোয়ার হোসেন ও মো. মাহবুব আলম জুয়া খেলা পরিচালনা করছেন। ক্রিস্টাল-১৮৬ ডটকম নামের অনলাইন গেমসের অনুমোদন নিয়ে তারা জুয়ার আসর বসিয়েছেন।

মাহবুব আলম লাবলু ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের ক্যাডার।বর্তমানে এই নামধারী সাংবাদিক ইউটিউব চ্যানেল বানিয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ন ব্যাক্তিদের চরিত্র হনন করা শুরু করেছেন।

সম্পদের পাহাড় লাবলুর

দুর্নীতি ও ক্যাসিনো ব্যবসা দিয়ে ধন সম্পদের পাহাড় গড়েছে সাংবাদিক নামধারী মাহবুব আলম লাবলু। চ্যানেল আই অনলাইনের অনুসন্ধানে জানা গেছে রাজধানী ঢাকায় নিজস্ব প্রাসাদ বাড়ি ও একটি ফ্ল্যাটের মালিক তিনি। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যানে নিজস্ব প্রাসাদ বাড়ি আছে। যার আনুমানিক মূল্য ১২ কোটি টাকা।

মিরপুরের পশ্চিম শেওড়াপাড়ার শামীম স্মরণীতে ‘অপসোরা পান্থশালা’ নামের এক ভবনের একটি ফ্ল্যাটের মালিক লাবলু।

এছাড়াও মানিকগঞ্জের গ্রামের বাড়ি চৌবাড়িয়াতে লাবলুর বাগানবাড়ি ও অট্টালিকা রয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য ১০ কোটি টাকা। সেখানে তার গরুর খামারও আছে।যার মূল্য দুই কোটি টাকার উপরে।

রাজধানীর ঢাকার ৭টি বাসের স্বত্বাধিকারী লাবলু। যার আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি টাকা।

তিনি প্রায়ই বিদেশ সফর করেন। বর্তমানে পান্থপথে একটি অফিস নিয়েছেন। সন্ধ্যার পর পর সেখানে মদ ও জুয়ার আসর বসে।

আলিফ পরিবহনের সাতটি বাসের মালিক লাবলু

রাজধানীর আলিফ পরিবহনের সাতটি বাসের মালিক লাবলু। বাসগুলো হলো ঢাকা মেট্রো ব-১১-৭০২১, ঢাকা মেট্রো ব-১১-৭৯৮৫, ঢাকা মেট্রো ব-১১-৭৯৮৬, ঢাকা মেট্রো ব-১১-৮০১১, ঢাকা মেট্রো ব-১১-৮০১২, ঢাকা মেট্রো ব-১১-৮০১৩, ঢাকা মেট্রো ব-১৩-১২০০


মানিকগঞ্জে হিন্দু জমি দখল করেছেন লাবলু

মানিকগঞ্জের চৌবাড়িয়া গ্রামে হিন্দুদের বেশ কিছু জমি দখল করেছেন লাবলু। চৌবাড়িয়া গ্রামের স্থানীয়রা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন:  লাবলু এলাকার অনেক হিন্দু জমি দখল করেছেন। তার বাবা মো. রশিদ মিয়া রাজাকার ছিলেন। তিনি নিজে শিবির ও ছাত্রদল করতেন।

লাবলুর তার চাচাতো বোনকে দিয়ে গ্রামের এক হিন্দু ছেলেকে বিয়ে করিয়েছিলেন। এরপর কয়েকদিন পরই ওই ছেলের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ থেকে সাত বিঘা জমি লিখে নেন এবং চাচাতো বোনকেও ছাড়িয়ে নেন।

মুক্তিযুদ্ধের পরে চৌবাড়িয়ার গ্রামের অধিকাংশই হিন্দু জমি ও জায়গা লাবলুর বাবা ও চাচারা দখল করে নেয়। এমনকি হিন্দু পরিবারগুলোকে অত্যাচারও করেছে।

গ্রামবাসীরা জানান, লাবলু ও তার বাবা চাচারা হিন্দুদের কমপক্ষে  ১০০ বিঘা জমি বিভিন্নভাবে ফাঁদে ফেলে নিজেদের নামে দলিল করিয়ে নিয়েছেন।

লাবলুর এই ভূমি দস্যুতার ঘটনা মানিকগঞ্জের ঘিওর থানার চৌবাড়িয়া, দুলন্ডী গ্রামের সবার মুখে মুখে। ওই হিন্দু পরিবারগুলো এরপর কয়েকবার দেশে এসেও মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন, কিন্তু কোনো সুরাহা করতে পারেননি। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলে লাভলু তাদেরকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে দেশ থেকে বিদায় করেন।

গত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও লাভলু ছিলেন বিএনপির সমর্থিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী  তাবিথ আওয়ালের মিডিয়া ম্যানেজার। ছাত্রজীবনে লাভলু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের ক্যাডার ছিলেন। সেখানেও ভর্তি হয়েছিলেন জাল সার্টিফিকেট দিয়ে। অবাক হয়েছিলেন  মানিকগঞ্জের ঘিওরের তার গ্রামের লোকজনও। কারণ যে ছেলে এইচএসসি পাসই করেননি, সে কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলো।  

 

 সরকারী হালট দখল

মানিকগঞ্জের চৌবাড়িয়া গ্রামের লাবলুর বাড়ির সামনের সরকারী হালট দখল করে নিজের বাড়ির সীমানায় মধ্যে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছে গ্রামবাসীরা। তারা বলছে বিএনপি সরকারের সময় খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মদদে গ্রামে আরও অনেক অপরাধমূলক কাজ করেছেন লাবলু।

 

 জিকে শামীমের সঙ্গে সখ্যতা

বিতর্কিত ঠিকাদার জি কে শামীমের সঙ্গে ঘনিষ্ট সখ্যতা ছিল মাহবুব হোসেন লাবলুর। সাংবাদিকতার প্রভাব খাটিয়ে লাবলু সরকারী ঠিকাদারী কাজ জিকে শামীমকে পাইয়ে দিতেন। লাবলুর মাধ্যমেই জি কে শামীম রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সরকারি কাজ নিয়ন্ত্রণ করত। বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে গণপূর্ত বিভাগে ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি হিসেবে জিকে শামীম পরিচিত ছিলেন।

 

 যেভাবে দুর্নীতি ও ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়ায় লাবলু

২০১৩ সালের ২৯ জুলাই গুলশানে শপার্স ওয়ার্ল্ড নামে একটি বিপণী বিতানের সামনে খুন হন যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল হক খান মিল্কী। হত্যাকারী হিসেবে যুবলীগ নেতা এইচ এম জাহিদ সিদ্দিক তারেককে চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেপ্তার হওয়ার পর খিলক্ষেতে র্যা বের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন তারেক। মিল্কী হত্যার অন্য দুই আসামি সাখাওয়াত হোসেন চঞ্চল ও রফিকুল ইসলাম রফিকের সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিল। সাংবাদিকতার প্রভাব খাটিয়ে তিনি বিভিন্নভাবে চঞ্চল ও রফিকদের সাহায্য করতেন। এই দুজনকে মিল্কী হত্যার আসামির নাম থেকে বাদ দিতে তদবির করেছিলেন তিনি।

লাবলু মূলত জিকে শামীম, বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা খালেদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। এক পর্যায়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে লাবলু। জিসানের প্রতিনিধি হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন বার ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান থেকে বড় অঙ্কের টাকাও তুলেছেন তিনি।

এক পর্যায়ে যখন জিকে শামীম আর জিসান ব্যবসায়িক সম্পর্ক ভেঙ্গে যায়, তা জোড়া দেওয়ার জন্যও কাজ করেছেন লাবলু।  


মাসিক ২ লাখ ৭০ হাজার টাকায় প্রীতম জামানের ফ্লোর ভাড়া নেয় লাবলু

 

প্রীতম জামান টাওয়ারের ৫০ ভাগ অংশের মালিক দেলোয়ার হোসেন পুলিশকে জানায়, ২০১৭ সালের পহেলা অক্টোবর পুরান পল্টনে প্রীতম জামান টাওয়ারের ১৪ তলার আংশিক ও ১৫ তলার অংশের ভাড়া নেয় লাবলু। প্রতিবর্গফুট ১২০ টাকা হিসেবে মাসিক ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা ভাড়া হিসেবে নেয় মাহবুব আলম লাভলু । ভাড়া নেয়ার সময় চুক্তিপত্রে অগিম টাকা দেয়ার কথা থাকলেও সে টাকা দেয়নি। এরপর সে ক্রিস্টাল ১৮৬ ডটকম, নামে একটি ট্রেড লাইসেন্স করে। সেখানে অনলাইনের ভিডিও গেমস ব্যবসা করার জন্য। ব্যবসার মূলধন ২ কোটি টাকা দেলোয়ার বিনিয়োগ করে। ব্যবসার লাভের অর্ধেক তাকে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু দেয় নাই। লাবলু তার নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজিও করে এবং তার কাছ থেকে টাকা নিয়ে আর দেয়নি। লাবলুর কাছে এখনো দেলোয়ার এক কোটি টাকার উপরে পাওয়া আছে।

দেশে অনলাইন ক্যাসিনোর জনক লাবলু

বাংলাদেশে অনলাইন ক্যাসিনোর জনক হিসাবেই পরিচিত মাহবুব আলম লাবলু। দুইবছর চালিয়েছেন অনলাইনে ক্যাসিনো ব্যবসা।

ক্রিষ্টাল ১৮৬ ডট কম নামে ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছিলেন অনলাইন ব্যবসার জন্য। পল্টনে প্রীতম জামান টাওয়ারে আলিশান অফিসও নিয়েছিলেন। তার ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুর ক্রমিক নম্বর -২৯৪৮। লাইসেন্স পাতার নম্বর-০২০৯০১৪৮। ট্রেড লাইসেন্সে তার পাসপোর্ট সাইজের ছবিও রয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এ অনলাইন জুয়ার আসরের খবর। এ জুয়ার আসর বন্ধ করার জন্য ২০১৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি পল্টন থানা পুলিশের পক্ষ থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি মেয়র বরাবর লিখিত আবেদন (যার স্বারক নম্বর-১২৪৭) করা হয়েছিল। সূত্র পল্টন মডেল থানার জিডি নম্বর-১৩১২।

Comments