খালেদা জিয়ার চিকিৎসার নামে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা,হানিফ

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার নামে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা,হানিফ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মহানুভবতার কারণে একজন দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদিকে মুক্ত আকাশে বের করে চিকিৎসার জন্য ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন তবে তিনি বাংলাদেশের আইনে একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি, তার পরেও তাকে জেলখানায় সর্বোচ্চো সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ফাতেমা নামের একটি মেয়েকে তার সঙ্গে থাকতে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলা স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল বর্ধিত সভায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার হাতে থাকা ক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যাবহার করে খালেদা জিয়াকে জেলখানার বাহিরে চিকিৎসার সুযোগ করে দিয়েছেন। তিনি এখন বাংলাদেশের সব চেয়ে ব্যয়বহুল এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। খালেদা জিয়ার চিকিৎসক ছাড়া ওই হাসপাতালের কোন চিকিৎসক আজ পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসা নিতে হবে এমনটি বলেননি। আবার বিএনপির পক্ষ থেকেও সুনির্দিষ্ট ভাবে কোন দেশে নিয়ে তাকে চিকিৎসা করাবে সেটি বলছেনা। তারা খালেদা জিয়ার চিকিৎসার দাবিতে প্রতিদিন প্রেসক্লাব এর সামনে গিয়ে আন্দোলন করছে। বিএনপি মূলত খালেদা জিয়ার চিকিৎসার নামে একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী কোন অন্যায় পছন্দ করেননা। ডা. মুরাদের বিষয়ে যখনি তিনি শুনেছেন তখনই তিনি ব্যবস্থা নিয়েছেন। ইতিমধ্যে তাকে মন্ত্রিত্ব থেকে ও জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের পরবর্তী নীতিনির্ধারণী সভায় তার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে মাহবুব উল আলম হানিফ আরও বলেন, আন্দোলন করে কোন লাভ হবেনা। খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যেতে হলে রাষ্ট্রপতির কাছে দণ্ড মওকুফ চেয়ে আবেদন করতে হবে। রাষ্ট্রপতি তার দণ্ডমওকুফ করলে তিনি বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করাতে পারবেন। এ ছাড়া কোন বিকল্প পথ খোলা নেই। বাংলাদেশের আইনে তিনি দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, দণ্ডপ্রাপ্ত কোন আসামীকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার কোন সুযোগ বাংলাদেশের আইনে নেই। তাই সরকার বিএনপির এই অন্যায় আবদার মেনে নিতে পারেনা।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি বলেন, শেখ হাসিনা রাষ্ট্র পরিচালনা করেন, দল পরিচালনা করেন ও বিশ্বের পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তা করেন। তারপরেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয় তিন বছর পর-পর। আপনার কি প্রধানমন্ত্রীর চেয়েও ব্যস্ত। দলকে সু-সংগঠিত করতে হলে তৃণমূলের কর্মীকে মূল্যায়ন করতে হবে। তৃণমূলে সঠিক সময়ে সম্মেলনের মাধ্যমে নেতা তৈরি করতে হবে।

লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিয়া মো. গোলাম ফারুক পিংকুর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য ফরিদুন্নাহার লাইলী, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন এমপি, লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. আনোয়ার হোসেন খান, লক্ষ্মীপুর পৌর মেয়র মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া, আওয়ামী লীগ নেতা মোমিন পাটওয়ারী, আব্দুল্যা আল মামুনসহ জেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

Comments