গ্রেনেড হামলা মামলার নিষ্পত্তি কবে?

গ্রেনেড হামলা মামলার নিষ্পত্তি কবে?

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ১৭ বছরেও অধরা সাজাপ্রাপ্ত ১৬ আসামি। উচ্চ আদালতে শুনানির অপেক্ষায় এ মামলা। বেঞ্চ ঠিক হলে শুরু হবে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের শুনানি। অ্যাটর্নি জেনারেল বলছেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলাটি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বৈঠকে পরিকল্পনা হয়েছিল তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করে দলকে নেতৃত্বশূন্য করা। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হামলার বিষয়টিও উঠে এসেছে আদালতের রায়ে।

সাজানো হয় জজ মিয়া নাটক। বারবার তদন্ত ও তৎকালীন ৪ দলীয় জোটের হস্তক্ষেপে নষ্ট হয় মামলার আলামত। বিচার পেতে অপেক্ষা করতে হয় প্রায় এক যুগ।

নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ২০১৮ সালের অক্টোবরে বহুল আলোচিত এ মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়, পলাতক তারেক রহমানসহ আরও ১৯ জনের। ১১ জনকে দেওয়া হয় স্বল্প মেয়াদে জেল। তবে রায়ের প্রায় ২বছর পরও এখনও আপিল শুনানি হয়নি হাইকোর্টে।

রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা জানান, শুনানির জন্য প্রস্তুত রাষ্ট্রপক্ষ।

অ্যাটর্নি জেনারেল এম এ আমিন উদ্দিন বলেন, হাইকোর্ট থেকে পেপারবুকটা প্রস্তুত হয়ে গেছে। পলাতক আসামিদের জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক আনজীবী নিয়োগ করা কথা সেটাও আদালত করে দিয়েছেন। মামলাটি শুনানির জন্য সম্পন্ন প্রস্তুত।


বেঞ্চ ঠিক হলে এ বছরই শুনানি শুরু হবে বলেও জানান অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি আরও বলেন, এই সপ্তাহে বা সামনে সপ্তাহে দিন ঠিক করার জন্য বলা হবে। আশা করছি, অতিদ্রুত শুনানি করা হবে। আলোচিত এ মামলাটি এ বছর শেষ করব।

আলোচিত এ মামলায় লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ৩৪ আসামি কারাগারে রয়েছেন। তারেক রহমানসহ ১৬ আসামি পলাতক। অন্য মামলায় ফাঁসি কার্যকর হয়েছে হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নানসহ ৩ জনের। আর এ বছরের র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন পলাতক আসামি ইকবাল।

২০০৪ সালের এ দিনে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী শান্তিপূর্ণ সমাবেশ চলাকালে এ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ২১ আগস্টের রক্তাক্ত ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন ১৬ জন। পরে সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৪ জনে।

রক্তাক্ত-বীভৎস ওই ভয়াল গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমান ছাড়াও সেদিন নিহত হন ল্যান্স করপোরাল (অব.) মাহবুবুর রশীদ, হাসিনা মমতাজ রিনা, রিজিয়া বেগম, রফিকুল ইসলাম (আদা চাচা), রতন শিকদার, মোহাম্মদ হানিফ ওরফে মুক্তিযোদ্ধা হানিফ, মোশতাক আহমেদ, লিটন মুনশি, আবদুল কুদ্দুছ পাটোয়ারী, বিল্লাল হোসেন, আব্বাছ উদ্দিন শিকদার, আতিক সরকার, মামুন মৃধা, নাসির উদ্দিন, আবুল কাসেম, আবুল কালাম আজাদ, আবদুর রহিম, আমিনুল ইসলাম, জাহেদ আলী, মোতালেব ও সুফিয়া বেগম। গ্রেনেডের স্প্রিন্টারের সঙ্গে যুদ্ধ করে ঢাকার সাবেক মেয়র মোহাম্মদ হানিফসহ আরও কয়েকজন পরাজিত হন। অবশেষে মৃত্যুবরণ করেন তারা। 

Comments