চীনা টিকা পাওয়ার সম্ভাবনা ঈদের আগেই

চীনা টিকা পাওয়ার সম্ভাবনা ঈদের আগেই

আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই চীনের কভিড টিকা বাংলাদেশে এসে পৌঁছবে বলে আশা করছে সরকার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, মে দিবস উপলক্ষে চীনে পাঁচ দিনের ছুটি সত্ত্বেও চীন সরকার ঈদুল ফিতরের আগেই কভিড-১৯ টিকা সরবরাহের কাজ শুরু করছে। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে তিনি ‘বিশেষ বন্ধুত্বের’ বলেও উল্লেখ করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সম্প্রতি বলেছেন, আগামী ১০ মের মধ্যেই চীন থেকে টিকা এসে পৌঁছবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং সম্প্রতি তাঁদের জানিয়েছেন, ঈদের আগেই টিকা বাংলাদেশে পৌঁছতে শুরু করবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, টিকার বিকল্প উৎসর খোঁজে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ই ঠিক করবে কবে, কত ডোজ টিকা আসবে এবং সেগুলোর পরিবহনব্যবস্থা কী হবে। তারাই জানে, কখন ওই টিকাগুলো প্রয়োজন হবে।

ড. মোমেন জানান, চীনে পাঁচ দিনের ছুটি আজ বুধবার শেষ হচ্ছে। এই পাঁচ দিন সব দাপ্তরিক কাজ বন্ধ থাকে। তিনি বলেন, চাহিদা বা সরবরাহ আদেশ অনুযায়ী টিকা তৈরি করা হয়। এ জন্য কিছুটা সময় লাগে। চীন ছাড়াও রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে টিকা পাওয়ার চেষ্টা চলছে। রাশিয়ার টিকা বাংলাদেশে যৌথ উদ্যোগে উৎপাদনের লক্ষ্যে কাজ চলছে।

বাংলাদেশ ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কোভিশিল্ড কেনার জন্য চুক্তি করলেও সে অনুযায়ী টিকা পায়নি। ভারতে ভয়াবহ কভিড পরিস্থিতি ও বিশ্ববাজারে টিকার কাঁচামাল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা পুরো পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে, আগামী মাসগুলোতে তারা ছয় কোটি ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা রপ্তানির জন্য ছেড়ে দেবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে টিকা চেয়েছি। তাদের কাছে ছয় কোটি ডোজ টিকা মজুদ আছে। টিকা ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত জন কেরি বাংলাদেশ সফরের সময় টিকা চেয়েছিল বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তাদের টিকা কার্যক্রম শেষ হলে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশে তারা টিকা রপ্তানি করতে পারে।

এদিকে ভারত তার দেশে উৎপাদিত নিজস্ব টিকা কোভ্যাক্সিন বাংলাদেশে যৌথ উদ্যোগে উৎপাদনের প্রস্তাব দিয়েছে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন ব্রাজিল, ভারত ও ব্রিটেনে করোনার প্রজাতির বিরুদ্ধে সমান কার্যকর।

Comments