চৌদ্দগ্রাম মানেই মুজিবুল হক, মুজিবুল মানেই চৌদ্দগ্রাম

চৌদ্দগ্রাম মানেই মুজিবুল হক, মুজিবুল মানেই চৌদ্দগ্রাম

কৃষকের সন্তান মুজিবুল হক এমপি, যিনি মহান জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়েও স্বগর্বে বুক ফুলিয়ে উচ্চারন করেন, ‘আমি একজন গর্বিত কৃষকের সন্তান, আমার বাবা একজন কৃষক’। যেকোন সভায় যান, সমাবেশে যান, গর্বের সাথে নিজেকে কৃষকের সন্তান বলে পরিচয় দেন। তিনি কৃষকের ভাষা বোঝেন, তিনি শ্রমিকের ভাষা বোঝেন, তিনি দিনমজুরের ভাষা বোঝেন, গরীব-দুঃখী-মেহনতী মানুষের ভাষা বোঝেন। বোঝেন বলেই চৌদ্দগ্রামের আপামর জনতার হৃদয় জয় করে তিনি আজ তাদের মনের মনিকোঠায় ঠাই করে নিয়েছেন। আলকরা থেকে কাশিনগর, চৌদ্দগ্রামের এমন কোন শ্রেণী পেশার মানুষ নাই, যিনি এই মানুষটির ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ নয়।
এক সময়ের জামাত অধ্যুষিত চৌদ্দগ্রামকে তিনি কোন রকম পেশি শক্তির ব্যবহার ছাড়াই, কোন রকম রক্তপাত ছাড়াই আজ আওয়ামী লীগের ঘাটিতে রুপান্তরিত করেছেন, বঙ্গবন্ধুর ঘাটিতে রুপান্তর করেছেন, শেখ হাসিনার ঘাটিতে রুপান্তরিত করেছেন, জয় বাংলার ঘাটিতে রুপান্তরিত করেছেন। তাঁর ব্যাক্তিত্বে, নেতৃত্বে, বিচক্ষণতায়, সরলতায় মুগ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বারবার তাঁকে পুরস্কৃত করেছেন, সম্মানিত করেছেন।
এই মহান মানুষটির এত সুদৃঢ় অবস্থান, এত সফলতা একদিনে আসেনি। তৃণমূল থেকে একটু একটু করে আজ এই অবস্থানে এসেছেন তিনি। হাইস্কুল জীবনেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন তিনি। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার পর তিনি ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। মুজিব বাহিনীর অন্যতম সংগঠক হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামে ভূমিকা রাখেন তিনি। ৭৫ এর কালরাতে স্বপরিবারের বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর গভীর এক অন্ধকারে নিমজ্জিত হয় বাংলাদেশ। সেই অন্ধকার সময়ে, সেই দুর্দিনে তিনি জয় বাংলার বারতা নিয়ে, পিতা মুজিবের আদর্শ বিলিয়ে দিতে, মুজিব আদর্শের সৈনিকদের ঐক্যবদ্ধ করতে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে হাটি হাটি পা পা করে হেটেছেন আলকরা থেকে কাশিনগর সমগ্র চৌদ্দগ্রাম।
১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চৌদ্দগ্রাম থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। ১৯৯৬ সালে তিনি একই আসনে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং বিপুল ভোটের ব্যবধানে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
বহুল আলোচিত ১/১১ তে নিজেদের বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে অনেক বাঘা বাঘা রাজনীতিকের জীবনে কালিমা লেপন হয়েছে। ব্যক্তি মুজিব নীতি ও আদর্শের ক্ষেত্রে কোনদিন আপোষ করেননি, ১/১১ এর সেই কঠিন সময়েও তিনি ছিলেন নীতি ও আদর্শে অটল। ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে মুজিবুল হক মুজিবের মতো আপোষহীন সংগ্রামী ও ত্যাগী রাজনীতিবীদদের দৃঢ়তা ও মনোবলের কারণেই মাইনাস-২ ফর্মূলা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় মুজিবুল হক মুজিব টেবিল চাপড়ে সেদিন হুংকার দিয়ে বলেছিলেন- “No Election No dialogue without Sheikh Hasina”। সেদিন মুজিবুল হকের সেই আপোষহীন কণ্ঠ প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে। কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে নেত্রী নিজেই মুজিবুল হককে কাছে ডেকে বলেছিলেন সেদিনের তাঁর আপোষহীন ভূমিকা ও বক্তব্যের কথা।
মুজিবুল হকের নীতি ও আদর্শে মুগ্ধ হয়ে পরবর্তীতে বারবার তাঁকে সম্মানিত করেছেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা।
২০০৮ এর ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হবার পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিবুল হক মুজিবকে মহান জাতীয় সংসদের হুইপের দায়িত্ব দিয়ে সম্মানিত করেন। একই সাথে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, সংসদ কমিটি এবং পিটিশন কমিটির সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পন করে সম্মানিত করেন মুজিবুল হক মুজিবকে।
১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০১২ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা মুজিবুল হক মুজিবকে তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে মনোনীত করেন এবং বাংলাদেশ রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করেন। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সততার সাথে দায়িত্ব পালন করেন এবং মন্ত্রণালয়ের গতিশীলতা ফিরিয়ে আনেন। সারাদেশ রেলওয়ে উন্নয়নে অভাবনীয় অবদান রাখেন তিনি।
১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের লক্ষ্যে গঠিত সর্বদলীয় সরকারে মুজিবুল হককে আবারও ধর্ম মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব দেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৫ জানুয়ারি ২০১৪ নির্বাচনের পর পুণরায় মুজিবুল হককে রেলপথ মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব দেন জননেত্রী শেখ হাসিনা।
মুজিবুল হকের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং সততায় বিমুগ্ধ হয়ে ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ তাঁকে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে আবারও সম্মানিত করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা।
মুজিবুল হক মুজিবের মত একজন মানুষের জন্ম চৌদ্দগ্রামের মাটিতে হয়েছে, এটি আমাদের জন্য পরম সৌভাগ্যের ব্যাপার। তিল তিল করে মুজিবুল হক মুজিব এই অবহেলিত চৌদ্দগ্রামকে আধুনিক চৌদ্দগ্রামে রুপান্তরিত করেছেন। আজকের চৌদ্দগ্রামে যেদিকেই তাঁকান যতদূর তাঁকান শুধু উন্নয়ন আর উন্নয়ন। চৌদ্দগ্রামে এমন কোন পাড়া নেই, এমন কোন মহল্লা নেই, এমন কোন গ্রাম নেই যেখানে মুজিবুল হক মুজিবের উন্নয়নের ছোঁয়া নেই। এমন কোন স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা নেই, এমন কোন মক্তব-মসজিদ-মন্দির নেই যেখানে মুজিবুল হক মুজিবের উন্নয়নের স্পর্শ নেই।
মুজিবুল হক মুজিব এমন একজন মানুষ, যে মানুষটি সারাজীবন যা আয় করেছেন তা আবার দু-হাতে বিলিয়েছেন মানুষের কল্যাণে এবং এখনো বিলিয়ে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশের ইতিহাসে চৌদ্দগ্রাম নামটি যতদিন থাকবে, মুজিবুল হক মুজিব নামটিও ততদিন চির ভাস্বর হয়ে থাকবে। চৌদ্দগ্রাম মানেই মুজিবুল হক, মুজিবুল মানেই চৌদ্দগ্রাম।
Comments