ছাত্রদলের ডাকা সমাবেশে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি

ছাত্রদলের ডাকা সমাবেশে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি

দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ছাত্রদলের ডাকা সমাবেশে কর্মীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি, হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বক্তব্য শুরু করার পর মঞ্চের সামনে ছাত্রদলের কর্মীরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলে মির্জা ফখরুল বক্তব্য শুরু করেন।

বক্তব্যের শুরুতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এত সুশৃঙ্খল সমাবেশ। কিন্তু তোমরা তোমাদের নিজেদের ধৈর্য হারিয়ে ফেললে। এটা দলের জন্য ভালো হবে না, বসো। অনেকক্ষণ বক্তৃতা হয়েছে তো, আমরা সবাই বিরক্তি হয়ে পড়েছি- ঠিক কি না? তাই না?’ মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের এককর্মীর সঙ্গে তর্কে জড়ান ঢাকা পশ্চিম ছাত্রদলের এক কর্মী। বাকযুদ্ধ একপর্যায়ে রূপ নেয় মারামারিতে।

সমাবেশে একটা উচ্চাঙ্গ সংগীত সম্মেলনের পরিস্থিতি তুলে ধরে ফখরুল বলেন, ‘আজকে আমার অবস্থা হয়েছে সেই রকম। সবাই বড় বড় শিল্পীরা গান করেছেন, বক্তৃতা করেছেন। এত সুন্দর বক্তব্য রেখেছেন যে, মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনেছেন। আর আমি যখন বক্তব্য রাখতে যাচ্ছি, তখন আমি দেখছি- এখানে সবাই অস্থির হয়ে গেছেন। এখন আর কারও ধৈর্য নেই। এটাও কিন্তু একটা বিজ্ঞান? প্রত্যেকটি মানুষের মনোযোগ একটা বিজ্ঞান। এটা কিছুক্ষণ থাকে, তারপর আর থাকে না।’

নেতাকর্মীদেরকে উদ্দেশ্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও মুক্ত সমাজের জন্য ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করেছিলাম। আমাদেরকে সেই মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে আজকে আবার সকল মানুষকে ১৯৭১ সালের মতো ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। প্রয়োজন হলে আরো একবার মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে এদেশকে মুক্ত করতে হবে।

সমাবেশকে কেন্দ্র করে রোববার সকাল ৯টা থেকে ব্যানার ও ফেস্টুনসহ খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রেসক্লাবে সমবেত হতে শুরু করেন। মিছিল থেকে তারা খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন।

এদিকে সমাবেশকে ঘিরে প্রেসক্লাবসহ এর আশপাশের এলাকার কঠোর নিরাপত্তার বলয় গড়ে তোলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Comments