ডিএসইতে চালু হলো নতুন সূচক

ডিএসইতে চালু হলো নতুন সূচক

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) নতুন ইনডেক্স ‘সিএনআই-ডিএসই সিলেক্ট ইনডেক্স’ (সিডিএসইটি) চালু হলো। সোমবার ডিএসইর নতুন এই সূচকটির উদ্বোধন করা হয়।

সোমবার বিকেলে বৃহৎ মূলধনের কোম্পানি নিয়ে নতুন সূচকটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন ডিএসইর চেয়ারম্যান ড. আবুল হাশেম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিএসইর শেয়ারহোল্ডররা ও কৌশলগত বিনিয়োগকারীর মনোনীত পরিচালক শিয়ে ওয়েনহাই এবং শেনঝেন সিকিউরটিজের জেনারেল ভাইস ম্যানেজার শিং জিং পিং।

জানা গেছে, ডিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারী, শেনঝেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের সমন্বয়ে চীনের কনসোর্টিয়ামের ব্যবসায়িক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার অংশ হিসাবে প্রাথমিকভাবে আকারভিত্তিক তিনটি (বৃহৎ, মধ্যম ও স্বল্পমূলধনী কোম্পানির) সমন্বয়ে নতুন সূচক চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারের সাথে কাজের অংশ হিসেবে নতুন ইনডেক্স চালু করা হয়। নতুন ইনডেক্স ডিজাইন করেছে শেনঝেন স্টক এক্সচেঞ্জের সাবসিডিয়ারি কোম্পানি শেনজেন সিকিউরিটিজ ইনফমেশন কোম্পানি লিমিটেড ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ।

বিনিয়োগকারীরা যাতে একনজরে বৃহৎ,মধ্যম ও সল্প মূলধনী কোম্পানির মূল্য হ্রাস-বৃদ্ধি দেখতে পারে, সেইজন্য এই সূচক চালু করা হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে ডিএসই সূচকের ব্রান্ডিং এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দেশের পুঁজিবাজারে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবেন বলে ডিএসইর কর্তাব্যক্তিরা দাবি করেছেন।

আগামীকাল বুধবার থেকে ডিএসইর ওয়েবসাইটে হোমপেজে ইনডেক্সটি দেখা যাবে। বর্তমানে সূচকটিতে ৪০টি কোম্পানি রয়েছে। নতুন সূচকে কোম্পানি অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বাজার মূলধন, মৌলভিত্তি ও তারল্য বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এই ইনডেক্সের বেস তারিখ ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৫ এবং বেস ভ্যালু ১০০০ পয়েন্ট। প্রতি ৬ মাসে সূচকটি পুর্নমূল্যায়ন করা হবে।

জানা গেছে, এর আগে কৌশলগত শেয়ার বিক্রির সময় ডিএসইর পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, চীনের কারণে শেয়ার বিক্রির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ডিএসইর শেয়ারের বেশি দরের সঙ্গে প্রযুক্তিগত সহায়তার অঙ্গীকার। চীনের প্রযুক্তির অংশ হিসেবে এই নতুন সূচক চালু হচ্ছে। যদিও ডিএসইর শরীয়াহ সূচক চালুর সময় নতুন উদ্যোম দেখা দিয়েছিল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে নতুন করে চালু করা সূচকটি আদৌ শেয়ারবাজারে কোন কার্যকরী ভুমিকা রাখতে পারবে কিনা সেটি দেখার বিষয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্রোকারেজ হাউসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ঢাক-ঢোল পিটিয়ে নতুন সূচক চালু করলেও সেটি বিনিয়োগকারীদের কতোটা আকৃষ্ট করতে পারবে সেটি সময় বলে দেবে। শেয়ারবাজারে এখন নগদ টাকার সংকট চলছে, সেই সঙ্গে আস্থাও তলানিতে। তাই চীন ও ডিএসইর নতুন সূচকটি প্রকৃতপক্ষে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কতোটা কাজে আসবে সেই বিষয়ে যথেস্ট সন্দেহ রয়েছে। কারণ এর আগেও ডিএসইর ব্লু চিপস বলে পরিচিত ডিএসই-৩০ সূচকটির শেয়ারগুলোরই দর বেশি কমেছে। অন্যদিকে শরীয়াহ সূচকের কোন কোন শেয়ার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সেটি এখনও সাধারন বিনিয়োগকারীরা জানতে পারেনি। তাই দেখতে হবে এই সূচক আদৌ কোন গুণগত পরিবর্তন আনবে না শুধু নতুন প্রণ্য বিক্রির কৌশল।

Comments