ডিসেম্বরে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে আরও ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

ডিসেম্বরে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে আরও ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

চলতি বছরের শেষে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন আরও ১০ থেকে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যোগ হচ্ছে। আর এ গ্যাস পাওয়া যাবে শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্র থেকে। জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন এই কূপ থেকে গ্যাস যুক্ত হলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস উত্তোলনের পরিমান আরও ১০ মিলিয়ন বাড়বে।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তিন বছর আগে ২০১৭/১৮ সালে ত্রিমাত্রিক ভূতাত্ত্বিক জরিপে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগরের শ্রীকাইলে গ্যাসের অস্তিত্ব রয়েছে বলে নিশ্চিত হয় একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স।) এরপর ২০১৯ সালের অক্টোবরে ‘অনুসন্ধান কূপ শ্রীকাইল ইস্ট-১’ শিরোনামে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। যা চলতি বছর অর্থাৎ ২০২০ সালের জানুয়ারিতে শেষ হয়। এরপর প্রায় তিন কিলোমিটার গভীর কূপ খনন করা হয়।

এর খনন ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭০ কোটি টাকা। নানা পরীক্ষা-নীরিক্ষার পর গত ৪ মার্চ গ্যাসের অস্তিত্ব পাওয়ার বিষয়টি ঘোষণা দেয় বাপেক্স। জানা যায় শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্রটিতে গ্যাসের চাপ দুই হাজার পিএসআর যা অন্য গ্যাসক্ষেত্রের তুলনায় বেশি। এ কূপে গ্যাস মজুতের পরিমান ৭১ বিসিএফ। আর এখান থেকে উত্তোলন করা যাবে ৫০ বিসিএফ।

বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, এই কূপে প্রায় তিন হাজার ৮০ মিটার গভীরে গ্যাসের অস্তিত্ব রয়েছে। এই কূপ থেকে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা যাবে।

সূত্র জানিয়েছে, শ্রীকাইলে এখন তিনটি কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন করছে বাপেক্স। এসব কূপ থেকে প্রতিদিন ২৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। নতুন এই কূপ থেকে উত্তোলন শুরু হলে এর সঙ্গে আরও ১০ মিলিয়ন ঘন ফুট গ্যাস বৃদ্ধি পাবে।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘শ্রীকাইল ইস্ট-১ থেকে আমরা ডিসেম্বরে উত্তোলনে যেতে পারবো। এখান থেকে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। প্রতিদিন এই পরিমানে গ্যাস উত্তোলন করা হলে এই কূপ থেকে আগামী ১৪ বছর গ্যাস পাওয়া যাবে।’

Comments