পাঁচটি আসনের উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বিএনপি

পাঁচটি আসনের উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বিএনপি

আসন্ন জাতীয় সংসদের পাঁচটি আসনের উপনির্বাচনে অংশ নিতে পারে বিএনপি। দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সম্প্রতি সিদ্ধান্ত হয়, প্রাণঘাতী করোনা ও বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে গেলে দল সামনের স্থানীয় সরকারসহ উপনির্বাচনে অংশ নেবে। করোনাকালীন পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হচ্ছে। ক্রমেই স্বাভাবিকতায় ফিরছে বাংলাদেশ। বন্যা পরিস্থিতিরও উন্নতি হচ্ছে। ফলে পাঁচ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরাও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

ঢাকা-৫ ও ঢাকা-১৮ আসনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মাঠে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। তারা এখন দলের হাইকমান্ডের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছেন। একইভাবে পাবনা-৪, সিরাজগঞ্জ-১ ও নওগাঁ-৬ আসনেও দলের একাধিক প্রার্থী দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করছেন। সংকেত পেলেই তারা আটঘাট বেঁধে মাঠে নামবেন।

উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের বক্তব্য হলো, আওয়ামী লীগকে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে দেওয়া হবে না। তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে চান।  এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল। আমরা সবসময় জনগণের ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায়নের পক্ষে। কিন্তু দেশে কি এখন কোনো ভোট হয়। গণতন্ত্রের সব রীতিনীতি ভেঙে আগের রাতেই এখন ভোট হয়ে যায়। বিনা ভোটেই সরকার এখন ক্ষমতায়। তারপরও দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে উপনির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে বিএনপি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’ জানা যায়, নির্বাচন কমিশন আজ ঢাকা-১৮ ও পাবনা-৪ আসনের তফসিল ঘোষণা করতে পারে। ঢাকা-১৮ আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন। এবার বিএনপি ভোটে গেলে দল এককভাবে এ আসনে লড়বে। সেখানে চারজন প্রার্থী ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তারা হলেন- ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, উত্তর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিল্পপতি এম কফিল উদ্দিন আহম্মেদ, বিএনপিপন্থি ব্যবসায়ী নেতা বাহাউদ্দীন সাদী ও ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। চারজনই দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন। কেউ কেউ এরই মধ্যে সামাজিক নানা কর্মকান্ডে যোগ দিচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে মনোনয়নপ্রত্যাশী বাহাউদ্দীন সাদী বলেন, ‘দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই করোনার সময়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চেয়ে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়কেই প্রাধান্য দিচ্ছে। আমরাও সেই সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান রেখে আপাতত প্রচার বন্ধ রেখেছি। দলীয় সিদ্ধান্ত পেলে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেব।’ কফিল উদ্দিন বলেন, ‘আমি এই এলাকার সন্তান। নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ আছেন, এলাকাবাসী আছে। আমার পারিবারিক ঐতিহ্য আছে। মনোনয়ন পেলে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।’ এস এম জাহাঙ্গীর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমি বিএনপির মাঠের কর্মী। দল যদি এই উপনির্বাচনে অংশ নেয়, তাহলে আমি মনোনয়ন চাইব। বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সব নেতা-কর্মীও আমার সঙ্গে আছেন। তারা আমার পক্ষে মাঠে কাজ করবেন।’

ঢাকা-৫ আসনে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট লড়েন নবীউল্লাহ নবী। বিএনপি ভোটে গেলে আসন্ন উপনির্বাচনেও তিনি ভোটযুদ্ধে লড়বেন। এরই মধ্যে তিনি অনানুষ্ঠানিকভাবে এলাকার নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় শুরু করেছেন। সামাজিক নানা কর্মকান্ডে অংশ নিচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে নবীউল্লাহ নবী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘দেশের এই মহামারীর সময় উপনির্বাচন কখন হবে কিংবা আমাদের দল অংশ নেবে কিনা তা এখনো ঠিক হয়নি। তবে দল যদি সিদ্ধান্ত নেয় আমি ভোটের জন্য প্রস্তুত। আমি মাঠে ছিলাম, আছি এবং থাকব। তাছাড়া গত নির্বাচনের পর থেকেই মাঠে আছি। অত্র এলাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করেছি। নিয়মিত সমন্বয় সভা করে চলেছি। করোনার এই সময়ে ডেমরা-যাত্রাবাড়ীর বিভিন্ন এলাকায় দুস্থদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছি।’

পাবনা-৪ আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটে লড়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব। এবার বিএনপি ভোটে গেলে তারই বিএনপি প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ ছাড়া ওই আসনে বিএনপির সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম সরদারের নামও আলোচনায় আছে।  সিরাজগঞ্জ-১ আসনে সর্বশেষ একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোটে লড়েছিলেন কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা। সামনে বিএনপি ভোটে অংশ নিলে তিনিই ধানের শীষের প্রার্থী হতে পারেন। এ ছাড়াও আরও তিনজন প্রার্থী ওই আসনে ধানের শীষের মনোনয়নপ্রত্যাশী। তারা হলেন, নাজমুল হাসান তালুকদার রানা, সেলিম রেজা ও টি এম তাহজিবুল এনাম তুষার তালুকদার।

নওগাঁ-৬ আসনে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের ভোট করেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির। বিএনপি ভোটে অংশ নিলে তিনি আবারও লড়তে পারেন। তবে ওই আসনে ধানের শীষের মনোনয়নপ্রত্যাশী আলমগীরের ভাই আনোয়ার হোসেন বুলু। এ ছাড়া রেজু শেখ ও শফিক আহমেদ বেলালের নামও আলোচনায় আছে।

Comments