পাউরুটি ও বেকারি পণ্যে কাঁচামাল আটার সঙ্গে মানবদেহের ক্ষতিকর উপাদান ট্রান্সফ্যাট

পাউরুটি ও বেকারি পণ্যে কাঁচামাল আটার সঙ্গে মানবদেহের ক্ষতিকর উপাদান ট্রান্সফ্যাট

করোনাকালে দেশে যে কয়েকটি পণ্যের বিক্রি বেড়েছে, সেগুলোর মধ্যে পাউরুটি অন্যতম। ছয় বছর ধরে পাউরুটির বাজার ১২ শতাংশ হারে বাড়ছিল। বাংলাদেশ অটো বিস্কুট অ্যান্ড ব্রেড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের হিসাব বলছে, গত বছর করোনাকালে এর বিক্রি বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ।

কিন্তু যে হারে এর বিক্রি বাড়ছে, সে অনুযায়ী মান নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে না বলে নানা গবেষণায় উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরাও বলছেন এমন কথা। দীর্ঘদিন ধরে দেশের অনেক পাউরুটি ও বেকারি পণ্যে কাঁচামাল হিসেবে আটার সঙ্গে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান ট্রান্সফ্যাট, কৃত্রিম রং ও মিষ্টিজাতীয় রাসায়নিক দ্রব্য সোডিয়াম সাইক্লোমেট ব্যবহৃত হচ্ছে। গত মাসে একটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়কীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হওয়া পাউরুটির বড় অংশে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর আরেক উপাদান পটাশিয়াম ব্রোমেট ব্যবহৃত হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন

পাউরুটিতে এ ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা গুরুতর অপরাধ। বিএসটিআইয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও বেকারির মালিকদের অতি লোভের জন্য এসব হচ্ছে। সরকারের উচিত এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ কঠোর হওয়া

অধ্যাপক নিজামুল হক ভূইয়া, খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষকের উদ্যোগে করা ওই গবেষণায় রাজধানীসহ দেশের চারটি জেলা থেকে ২১টি পাউরুটির নমুনা পরীক্ষা করা হয়। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এক কেজি পাউরুটিতে ৫ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম ব্রোমেট ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু ৬৭ শতাংশ পাউরুটির নমুনায় ওই মানমাত্রার চেয়ে বেশি পটাশিয়াম ব্রোমেট পাওয়া গেছে। পাউরুটি ফোলাতে ও বিভিন্ন আকৃতি দিতে এই রাসায়নিক উপাদানটি ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশ্বের বেশির ভাগ উন্নত দেশে খাবারে এই উপাদানটির ব্যবহার নিষিদ্ধ।

বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স শাখার পরিচালক মো. সাজ্জাদুল বারী বলেন, ‘পাউরুটি তৈরিতে পটাশিয়াম ব্রোমেট ব্যবহার যদি মানমাত্রার চেয়ে বেশি হয়, তাহলে আমরা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল ও এক লাখ টাকা জরিমানা করে থাকি। তবে মূলত লাইসেন্স নবায়নের সময় আমরা তাদের পাউরুটিগুলো পরীক্ষা করি। সেখানে আমরা এ ধরনের কোনো উপাদান পাইনি। পেলে অবশ্যই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নিজামুল হক ভূইয়া প্রথম আলোকে বলেন, পাউরুটিতে এ ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা গুরুতর অপরাধ। বিএসটিআইয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও বেকারিমালিকদের অতি লোভের কারণে এসব হচ্ছে। সরকারের উচিত এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ কঠোর হওয়া।

Comments