প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ; কে এই জিয়া হায়দার?

প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ; কে এই জিয়া হায়দার?

গত এক সপ্তাহ ধরে ডা. জিয়া হায়দার বেশ আলোচনায়। এর প্রধান কারণ তার মা মারা গেছেন। রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের বিরুদ্ধে তার মাকে মেরে ফেলার অভিযোগ তুলেছেন বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র এই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। গত ২৩ এপ্রিল তার মা মাহমুদ খানম (৭৫) মারা যান। এর আগে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় গত ১২ এপ্রিল মধ্যরাতে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। ১৪ এপ্রিল বৃদ্ধাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এর পর তাকে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এরপরই জিয়া হায়দার ও তার পরিবার অভিযোগ তুলতে থাকে ইউনাইটেড হসপিটাল ও দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বিচার চেয়ে একটি চিঠিও লেখেন। এ পর্যন্ত অনেকেই জেনেছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবরও প্রকাশ হয়েছে। মায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু হলে তিনি এমন অভিযোগ তুলতে পারেন, সেটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে জিয়া হায়দার সম্পর্কে জানা গেল চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য।

কে এই জিয়া হায়দার? একটু পেছনে যাওয়া গেল। আপনিও যেতে পারেন চাইলে জিয়া হায়দারের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সূত্র ধরে। মায়ের মৃত্যুর আগে জিয়া হায়দারের পোস্টগুলো খুঁজে দেখলো কৌতুহল মন। প্রায় প্রতিটা পোস্টে জিয়া হায়দার সূদুর কম্বোডিয়ায় বসে দেশের সমালোচনা করেছেন। দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে একের পর এক পোস্ট দিয়েছেন। এটা কি শুধুই মনের ক্ষোভ থেকে? আসলে তা নয়।

জিয়া হায়দার পরিবারের বড় ছেলে। ছাত্র রাজনীতি শুরু করেন বরিশালের শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজের ছাত্রদল থেকে। তার ভাই কামাল হায়দার যিনি গভ:মেন্ট তিতুমীর কলেজের শিক্ষক। যিনিও বিএনপির রাজনীতি করেন। তাদের তৃতীয় ভাই ডা. খালিদ মাহমুদ হায়দার শাকিল সহকারী অধ্যাপক হিসেবে রাজধানীর শিশু হাসপাতালে কর্মরত।  যিনি বরিশাল মেডিকেলের ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। তিনি বিএনপির সময় বরিশাল মেডিকেলের ছাত্র সংসদের ভিপিও ছিলেন। ছা্ত্র রাজনীতিতে তিনি বেশ পরিচিত মুখ ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র সরবারহ ও ছাত্রলীগের ওপর অত্যাচার নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। একাধিক নারীর শ্লীতহানীরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তিনি বিয়ে করেছে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন মঙ্গুর মেয়েকে। সে বরিশালের বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান সরোয়ারের আত্নীয় বলেও জানা যায়।

ভাইদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ডা. আনোয়ার পারভেজ। যিনি বর্তমানে আমেরিকাতে আছেন। তিনিও ছাত্র দলের কর্মী ছিলেন। ২০০১-২০০৫ সাল পর্যন্ত বরিশালে দাপটের সঙ্গে রাজনীতি করেছেন। যার বিভিন্ন অ্যতাচার ও নির্যাতনের ভুক্তভোগি রয়েছে বরিশালের বহু ছাত্রনেতা। সে এখনো সক্রিয়। স্যোশাল মিডিয়াতে সরকার ও দেশের বিরুদ্ধে নানা মিথ্যাচার করে নিয়মিত। সে বিএনপির সেখানকার স্থানীয় শাখার রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় রয়েছেন।

এই পরিবারটি বরিশাল থেকে এসেছে। পরিবারের আরো সদস্যর মধ্যে রয়েছে মাকসুদা চৌধুরী, নাহার হিরা, হাবিবুর রহমান। যারা বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় এবং দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন। তারা ৩ ভাই- ই বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। সেখানে বিএনপির ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মীও ছিলেন।

এবার আসি জিয়া হায়দারের প্রসঙ্গে। ছাত্র রাজনীতি থেকেই তারেক জিয়ার সঙ্গে তার পরিচয়। সেই সুবাধে ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মীও ছিলেন। কিন্তু বিএনপি- জামাত সরকার ক্ষমতা থেকে চলে গেলে তারাও সুযো্গ বুঝে বিদেশে পাড়ি জমান। আর সেখান থেকেই দলের জন্য সক্রিয় থাকছেন। তারেক জিয়ার সঙ্গে রয়েছে নিয়মিত যোগাযোগ। আর তাদের হীন উদ্দেশ্য সরকার ও দেশের কুৎসা রটানো। প্রবাসে থেকে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে সদা লিপ্ত। এই দুর্যোগকালীন সময়ে তাদের চাওয়া যেন ওয়ার্ল্ড ব্যাংকসহ বিশ্বের বড় বড় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলোর চোখে নেতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করা। যেন তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় বাংলাদেশ থেকে। তারা সরকার ও দেশকে ব্যর্থ হিসেবে পর্যবসিত করতে চাচ্ছে। তারই প্রচেষ্টায় মায়ের মৃত্যুকে ইস্যু করে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে চিঠি ও সংস্থাগুলোতে দিচ্ছে ধর্ণ। তদন্তের বদলে তাদের লক্ষ্য ভিন্ন।

একটা জিনিস লক্ষ্যণীয় যে, এই করোনা মহামারির সময়েও বিএনপি- জামাতের একটি বড় গ্রুপ সক্রিয় ষড়যন্ত্র করে সরকারকে পর্যদুস্ত করতে। তারা দেশে বিদেশে অনলাইনে নানা কুৎসা ভুল তথ্য দিয়ে রটাচ্ছে। কিংবা ছোটখাটো বিষয়কে অত্যন্ত বড় ইস্যু তৈরী করতে চাচ্ছে।

এই সময়ে প্রধানমন্ত্রী দিনরাত পরিশ্রম করে মরণঘাতি ভয়াবহ এই রোগের বিরুদ্ধে লড়ছেন। স্বাস্থ্যখাতে কমতি রয়েছে, সেই কমতি দিয়েই তো জয় করতে হবে। কমতি তো ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ও। কিন্তু কঠিন মনোবলে বিজয় এসেছে। করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধেও জয় অবশ্যই আসবে। তবে সরকারকে বিচলিত করার এই গ্রুপের দিকে গভীর মনোযোগ দিতে হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

Comments