বখাটেদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে পুলিশ

বখাটেদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে পুলিশ

রাজশাহী মহানগরীতে বখাটেদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরু করেছে পুলিশ। পাড়া-মহল্লার বখাটেদের ধরে ধরে নেওয়া হচ্ছে থানায়। রাজশাহী নগর পুলিশের (আরএমপি) পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে তারা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। ছোট-খাটো অপরাধে আটক করা হলে মুচলেকা আদায়ের পর অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়া হচ্ছে। আর গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকলে আদালতের মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে কারাগারে। আরএমপির মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, শুক্রবার ১২ থানা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৫৬ জন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের আটক করা হয়। আটককৃতদের থানায় এনে যাচাই বাছাই করা হয়। যাচাই বাছাই শেষে ৩২ জনকে মুচলেকা নিয়ে তাদের অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়া হয়। শনিবার অভিযানে ৪২ জন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যকে আটক  করা হয়। আটককৃতদের থানায় এনে যাচাই বাছাই করা হয়। যাচাই বাছাই শেষে ৩৪ জনকে মুচলেকা নিয়ে তাদের অভিভাবকের জিম্মায় ছাড়া হয়। রবিবার ১১৬ জনকে থানায় এনে প্রথমে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। এরপর ১১২ জনকে মুচলেকা নিয়ে তাদের অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ৪ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার থেকেই নগরজুড়ে এ অভিযান শুরু হয়েছে। পুলিশ বলছে, কিশোর গ্যাং ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। তারা পাড়া মহল্লার প্রভাবশালী, মাস্তান বা বড় ভাইদের হয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা একসঙ্গে মাদকসেবন, নারীদের উত্ত্যাক্ত করাসহ ছোট ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারামারি ও ঝগড়া বিবাদে জড়িয়ে পড়ছে।

অনেক সময় খুন ধর্ষণের মতো ঘটনাও ঘটছে। সরেজমিনে বখাটেদের ব্যাপারে পুলিশের তৎপরতা দেখা গেছে। মোড়ে মোড়ে চলছে তল্লাশি। মোটরসাইকেলে তিনজন কিশোর দেখতে পেলেই পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিচ্ছে। যারা বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালাচ্ছে তাদেরও ধরা হচ্ছে। এছাড়া দলবেঁধে পাড়ার মোড়ে আড্ডা বা ঘুরে বেড়ানো কিশোরদেরও আটক করা হচ্ছে।

আরএমপির মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, পুলিশের কাছে পাড়া-মহল্লার বখাটেদের তালিকা আছে। তালিকায় যাদের নাম আছে তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ছোট-খাটো অপরাধে জড়ালেও আটক করা হচ্ছে। তিনি বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের একটা বড় অংশ মোটরসাইকেলে নিয়ে নগরী দাপিয়ে বেড়ায়। তাদের আটক করে থানায় নেওয়া হচ্ছে। কিশোর অপরাধ কমাতে আরএমপির এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

Comments