ব্যবসার প্রসারে উপশাখা খুলতে পারবে ব্যাংক

ব্যবসার প্রসারে উপশাখা খুলতে পারবে ব্যাংক

ব্যাংকিং সেবায় এবার যুক্ত হচ্ছে উপশাখা। মোবাইল ব্যাংকিং, এজেন্ট ব্যাংকিং প্রভৃতির পর এবার উপশাখার অনুমোদন দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতদিন দেশের ব্যাংকগুলো লেনদেনের জন্য শাখা খুলে ব্যবসা করতো, এবার এই ব্যাংকগুলো উপশাখাও খুলতে পারবে। তবে যে সব ব্যাংক এরই মধ্যে ‘ব্যাংকিং বুথ’ নামে ব্যবসা কেন্দ্র খুলেছে, সেই কেন্দ্রগুলোকে ‘উপশাখা’ নামে অভিহিত করতে হবে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, এখন থেকে ‘ব্যাংকিং বুথ’ নামের ব্যবসা কেন্দ্রগুলো ‘উপশাখা’ নামে পরিচিত হবে। একইসঙ্গে ‘ব্যাংকিং বুথ’ শব্দগুচ্ছ এবং ‘ব্যাংকিং বুথ’ বোঝাতে ব্যবহৃত সব শব্দ/শব্দগুচ্ছ ‘উপশাখা’ শব্দ দ্বারা প্রতিস্থাপিত হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, ব্যাংকের ভল্টের নিরাপত্তার মতো উপশাখার নগদ টাকা জমা ও ক্যাশে থাকা টাকার পূর্ণ বিমা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া প্রয়োজনে উপশাখায় ভল্ট স্থাপন করা যাবে। ওই ভল্ট নিয়ন্ত্রণকারী শাখার ভল্ট হিসেবে গণ্য হবে। ব্যাংকের কোনও পূর্ণাঙ্গ শাখার নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত স্বল্পব্যয়ী ‘ব্যবসা কেন্দ্র’ এখন থেকে উপশাখা নামে পরিচালিত হবে।

ব্যাংকের শাখার মতো উপশাখাগুলোতেও বেশ কিছু সুবিধা পাওয়া যাবে। এসব ব্যবসা কেন্দ্র চালু করতে হলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এছাড়া উপশাখার আকার এক হাজার বর্গফুটের বেশি ও কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দুই জন কর্মকর্তা নিয়োগ করার কথা বলা হয়েছে।

ব্যয়ের বিষয়ে বলা হয়েছে, স্বল্পব্যয়ী ব্যাংকিং আউটলেট বিবেচনায় প্রচলিত শাখা স্থাপনের জন্য নির্ধারিত বিভিন্ন ব্যয়সীমার চেয়ে উপশাখা স্থাপনের ব্যয় এবং প্রচলিত শাখা থেকে দেওয়া ব্যাংকিং সেবার জন্য নির্ধারিত ফি, চার্জ, কমিশনের চেয়ে উপশাখার সেবা দেওয়ার ফি, চার্জ, কমিশন সবই কম হবে।

উপশাখায় খোলা যেকোনও ব্যাংক হিসাব, মূল ব্যাংক শাখায় খোলা হিসাব বলে বিবেচিত হবে। হিসাব খোলার ক্ষেত্রে গ্রাহক পরিচিতির তথ্যসহ (কেওয়াইসি) প্রচলিত বিধি-বিধান যথাযথভাবে পালন করতে হবে। উপশাখার লেনদেন নিয়ন্ত্রণকারী শাখার বুকস অব অ্যাকাউন্টসে অন্তর্ভুক্ত হবে।

জানা গেছে, উপশাখায় সব লেনদেন রিয়েল টাইম বেসিসে সম্পাদিত হবে এবং গ্রাহকদের তাৎক্ষণিকভাবে এসএমএস ও প্রিন্ট রশিদ দিতে হবে। উপশাখার সেবার পরিসর এবং যেকোনও লেনদেনের ঊর্ধ্বসীমা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে। তবে উপশাখায় বৈদেশিক বাণিজ্য-সংক্রান্ত কোনও কার্যক্রম সম্পাদন করা যাবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ইন্টারনাল কন্ট্রোল অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স নীতিমালা এবং সংশ্লিষ্ট নির্দেশনার আলোকে ব্যাংকের নিরীক্ষা কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত রাখতে হবে। অর্থপাচারের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রচলিত বিধি-বিধান মেনে চলতে হবে। উপশাখার সেবা দেওয়ার সময় হবে স্বাভাবিক ব্যাংকিং সময়।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে ব্যাংক তার ব্যবসা ও গ্রাহকসেবার স্বার্থে অন্য সময়েও খোলা রাখতে পারবে।

উপশাখায় নিরবচ্ছিন্ন ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাসহ তথ্যপ্রযুক্তি কাঠামো থাকার কথা বলা হয়েছে। উপশাখায় যেসব সেবা পাওয়া যাবে তার একটি তালিকা দৃশ্যমান স্থানে টাঙিয়ে রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গ্রাহকদের জন্য অভিযোগকেন্দ্র থাকার কথাও বলা হয়েছে।

Comments