মুজিববর্ষে মেট্রো রেলের পরীক্ষামূলক চলাচল

মুজিববর্ষে মেট্রো রেলের পরীক্ষামূলক চলাচল

সমতল থেকে ক্রমে ওপরে উঠে গেছে ছাইরঙা অবকাঠামো। এর ভেতরে আসা ও ফেরার পৃথক রেলপথ বসানোর ব্যবস্থা। ইংরেজি বছর ২০২০-এর প্রথম দিন গতকাল বুধবার সকাল সোয়া ১০টায় ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ীতে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হলো দেশের প্রথম মেট্রো রেলের লাইন (ট্র্যাক) ও বৈদ্যুতিক লাইন সঞ্চালন সিস্টেম বসানোর কাজ। উদ্বোধন করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, মেট্রো রেলের লাইন ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন সিস্টেম বসানোর কাজ আগামী ৩০ জুনের মধ্যে শেষ করতে পরিকল্পনা জোরদার করা হয়েছে। ঢাকার উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মেট্রো রেলপথ। মেট্রো রেলপথে বসানোর জন্য আগামী ১৫ জুন জাপান থেকে আসা শুরু করবে মেট্রো ট্রেন সেট। এরপর শুরু হবে পরীক্ষামূলক চলাচল।

ঢাকা মাস ট্রানজিট কম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) অধীন ২০৩০ সালের মধ্যে আরো পাঁচটি মেট্রো রেল প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে উত্তরা-মতিঝিল মেট্রো রেল চালু করা হবে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে।

ডিএমটিসিএলের দেওয়া তথ্য মতে, উত্তরা তৃতীয় পর্ব থেকে মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত মেট্রো রেল প্রকল্পের কাজ এগিয়েছে ৪০.২ শতাংশ।

২০২০ সাল মুজিববর্ষ। মুজিববর্ষের ক্ষণ গণনা শুরু হচ্ছে আগামী ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন থেকে। মুজিববর্ষেই উত্তরা থেকে মতিঝিলে মেট্রো ট্রেনের পরীক্ষামূলক চলাচলের মাধ্যমে চূড়ান্ত চালুর বেশির ভাগ প্রক্রিয়া শেষ করা হবে।

এ প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। আটটি অংশে ভাগ করে মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। গত এপ্রিল থেকে মেট্রো রেলের কোচ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে জাপানে। মেট্রো রেলের মক আপ বা নমুনা ট্রেন এরই মধ্যে জাপান থেকে বাংলাদেশে এসেছে। এর মাধ্যমে ট্রেন পরিচালনার জন্য বিদ্যুৎসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।

যাত্রীরা কিভাবে মেট্রো রেল ব্যবহার করবে সেই ধারণা দিতে উত্তরার দিয়াবাড়ীতে মেট্রো রেল প্রদর্শনী ও তথ্যকেন্দ্র চালু হচ্ছে আগামী মার্চ মাস থেকে।

প্রকল্পের ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল সিস্টেম এবং রোলিং স্টক ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহের কাজে অগ্রগতি হয়েছে ২৫.২৫ শতাংশ। রেলপথ বসানোর জন্য উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশের ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটারের মধ্যে ৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার অংশে অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। উত্তরায় ডিপো এলাকায় পূর্ত কাজ এগিয়েছে ৬০ শতাংশ। আগামী জুনের মধ্যে ডিপো এলাকার পূর্ত কাজ শেষ হবে।

উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট ও ৯টি স্টেশন নির্মাণকাজের অগ্রগতি হয়েছে ৬৫.৭০ শতাংশ। আগারগাঁও থেকে কারওয়ান বাজার অংশে ৩ দশমিক ১৯৫ কিলোমিটারে ভায়াডাক্ট ও তিনটি স্টেশন নির্মাণের কাজ এগিয়েছে ৩৩.৫১ শতাংশ। কারওয়ান বাজার থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ৪ দশমিক ৯২২ কিলোমিটার অংশে ভায়াডাক্ট ও চারটি স্টেশন হবে। এ অংশে কাজ হয়েছে ৩৭.৮৫ শতাংশ।

উত্তরায় প্রকল্পের ডিপো এলাকায় ট্রেন ও কোচ ধোয়া-মোছার স্থান, কোচ জোড়া লাগানো বা খোলার ৫২টি জায়গার মধ্যে ১১টির অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। বাকি অবকাঠামোগুলো নির্মাণের কাজও দ্রুতগতিতে চলছে।

মেট্রো রেলের বিদ্যুত্ব্যবস্থা স্থাপন ও রেললাইন বসানোর কাজটি করছে জাপানের মারুবেনি ও ভারতের এলঅ্যান্ডটি। রেললাইন নির্মাণের পাত ও বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র নির্মাণের সরঞ্জাম এরই মধ্যে এসে গেছে।

উত্তরার দিয়াবাড়ীতে লাইন বসানোর আগে ফাস্টেনিং সিস্টেম বা স্ক্রু লাগানো শেষ হয়েছে। ট্রেন চলাচলের সময় ট্র্যাকে ঘর্ষণের শব্দ নিয়ন্ত্রণে রাবারের প্যাড লাগানোর কাজও শেষ। মেট্রো রেলপথের ১৬টি স্টেশনের প্রতিটি হবে তিনতলা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়কমন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় ছয়টি মেট্রো রেলের কাজ শেষ হবে। এসব মেট্রো রেল চালু হলে ঢাকা শহরে অনিন্দ্যসুন্দর দৃশ্যপট তৈরি হবে। ২০২১ সালে বিজয়ের মাসে উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৬ উদ্বোধন করা হবে। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত চলা মেট্রো রেলের কাজ কমলাপুর পর্যন্ত বর্ধিত করা হবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, খুব শীঘ্রই আরো দুটি রুটে মেট্রো রেল এমআরটি লাইন-১ ও ৫-এর কাজ শুরু হবে। সঙ্গে থাকবে পাতালরেল সাড়ে ১৩ কিলোমিটার। এরই মধ্যে ডিপিপি অনুমোদিত হয়েছে। তিনি বলেন, মেট্রো রেল এলাকায় যে বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে, বাইরে থেকে তা বোঝার উপায় নেই।

এ সময় সড়কসচিব নজরুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Comments