মুস্তাফিজের স্লোয়ারেই যত ভয় ল্যাথামের

মুস্তাফিজের স্লোয়ারেই যত ভয় ল্যাথামের

অস্ট্রেলিয়া দলে সেরা একাদশের আটজন ছিলেন না। নিউজিল্যান্ড স্কোয়াডে তো সেরাদের একজনও নেই। এমন একজনের নেতৃত্বে কিউইরা বাংলাদেশে এসেছে, যিনি কিনা গতকালের সংবাদ সম্মলনে মনেই করতে পারছিলেন না শেষ কবে তিনি টি২০ খেলেছিলেন! যদিও অধিনায়ক টম ল্যাথাম মনে করছেন, অভিজ্ঞতার এই ঘাটতি কঠোর পরিশ্রম দিয়ে তারা পূরণ করে ফেলবেন। তার পরও মিরপুরের মন্থর উইকেটে নিউজিল্যান্ডের এ দলটিকে যে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এর মধ্যে মুস্তাফিজের বিষ মাখানো স্লোয়ারকেই বেশি ভয় পাচ্ছেন কিউই অধিনায়ক।

গত মাসে অস্ট্রেলিয়াকে যে রকম উইকেট দেওয়া হয়েছিল, সে রকম উইকেটে প্রস্তুতি নিয়েই নাকি এসেছে নিউজিল্যান্ড। এমনকি আরও চ্যালেঞ্জিং উইকেটের জন্যও নাকি প্রস্তুত তারা। গতকালের ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বেশ দৃঢ়তার সঙ্গেই এসব বললেন ল্যাথাম, ‘মাসখানেক আগে অস্ট্রেলিয়া যে রকম উইকেটে খেলেছিল, আমরা সে রকম উইকেটের জন্য প্রস্তুত। নিউজিল্যান্ডে আমরা খুব ভালো ক্যাম্প করে এসেছি। আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও চ্যালেঞ্জিং উইকেটে খেলার প্রস্তুতি নিয়ে এসেছি আমরা। গত পাঁচ দিন এখানেও খুব ভালো অনুশীলন হয়েছে। চেষ্টা করেছি এখানকার উইকেট ও আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে। আমরা এখানে পাঁচটি ম্যাচ খেলব। কাজেই উইকেটগুলো দুই বা তিনবারও ব্যবহার হতে পারে। আমরা যে ধরনের উইকেট পাব, সেটার সঙ্গেই ধৈর্য নিয়ে মানিয়ে নিতে হবে।’

মিরপুরের উইকেট এমনিতেই মন্থর। গত মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে উইকেট ব্যাটসম্যানদের জন্য আরও কঠিন ছিল। বল টার্ন করেছে, গ্রিপও করেছে। এ ধরনের উইকেটে মুস্তাফিজকে বড় হুমকি মনে করছেন ল্যাথাম, ‘তারা (বাংলাদেশি বোলার) সবাই-ই চ্যালেঞ্জ নিয়ে হাজির হবে। ইনিংসের শুরুতে থাকবে মুস্তাফিজ। স্লোয়ার ডেলিভারির জন্য সে প্রসিদ্ধ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সে কীভাবে বল করেছে, সেটা আমরা দেখেছি। তাদের দারুণ ক’জন স্পিনার আছে, যারা বেশ অভিজ্ঞ।’

তবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন বলেও জানালেন ল্যাথাম, ‘গত পাঁচ দিন ছেলেরা কঠোর পরিশ্রম করছে। আমরা চেষ্টা করছি কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে। তবে যেমন পরিস্থিতিই আসুক, আমরা মোকাবিলার করার জন্য মুখিয়ে আছি।’

সর্বোচ্চ প্রস্তুতির কথা বললেও বাংলাদেশকে সমীহ জানাতে ভোলেননি তিনি, ‘অবশ্যই খুব চ্যালেঞ্জিং হবে। আমরা জানি, এই কন্ডিশনে তারা কতটা ভালো। তারা অভিজ্ঞতায় বেশ সমৃদ্ধ। অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও দেখেছি ওরা কতটা ভালো। আমাদের অবশ্যই নিজেদের উজাড় করে দিতে হবে। ছেলেরা এজন্য প্রস্তুত আছে।’

নিউজিল্যান্ডের এই দলটা বেশ অনভিজ্ঞ। টি২০ বিশ্বকাপ স্কোয়াডের একজনও নেই। তার পরও অনুপ্রেরণার অভাব হবে না বলেই মনে করছেন ল্যাথাম, ‘দেশের হয়ে খেলাটাই সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব বেশি টি২০ খেলার সুযোগ পাইনি। সেদিক থেকে বেশ রোমাঞ্চিত। দলে যারা আছে তাদের কেউই খুব বেশি ম্যাচ খেলেনি। এখানে ভালো খেলে সিরিজ জেতাই আমাদের লক্ষ্য।’

Comments