মোহাম্মদ নাসিম ও শেখ আবদুল্লাহর মৃত্যুতে সংসদে কাঁদলেন প্রধানমন্ত্রী

মোহাম্মদ নাসিম ও শেখ আবদুল্লাহর মৃত্যুতে সংসদে কাঁদলেন প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহর মৃত্যুতে সংসদে আনা শোক প্রস্তাব আলোচনায় কাঁদলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ রোববার (১৪ জুন) প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের উপ প্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার তার ফেসবুক পোস্টে এ কথা লেখেন।তিনি লেখেন, প্রধানমন্ত্রী শোক প্রস্তাব আলোচনায় বলেন,  ‘বারবার বাধা (পেয়েছি), কিন্তু যে কজন মানুষ সব সময় খুব পাশে থেকেছে, প্রতিটি ক্ষেত্রে সমর্থন দিয়েছেন তাদের দুজন মানুষকে একসঙ্গে হারালাম এটা সবচেয়ে কষ্টের।’

রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের মুলতবি অধিবেশন শুরু হয়। রেওয়াজ অনুযায়ী শুরুতে স্পিকার সম্পূরক কার্যসূচিতে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ১৪ দলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম এবং ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহ’র জীবন বৃত্তান্ত তুলে ধরে শোকপ্রস্তাব উত্থাপন করেন।

এরপর মোহাম্মদ নাসিমের জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা শুরু হয়।মোহাম্মদ নাসিমের বাবা জাতীয় চার নেতার একজন এম মনসুর আলীর কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘মোহাম্মদ নাসিম রাজনৈতিক নেতা হিসেবে অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন। আমি যখন দেশে ফিরে আসি তখন একটা প্রচেষ্টা ছিল এই শহীদ পরিবারগুলোর ছেলে-মেয়েদের একসঙ্গে নিয়ে আসা। আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত ও শক্তিশালী করা। এ কাজ করতে গিয়ে নাসিম ভাইকে সব সময় আমার পাশে পেয়েছি।’রাজনীতির মাঠে বিভিন্ন শাসনামলে

মোহাম্মদ নাসিমের ওপরে নির্যাতনের বর্ণনা করতে গিয়ে বারবার আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘খুব দুঃখজনক… আসলে আমার জন্য খুব কষ্টকর হচ্ছে বলতে, এভাবে সবাইকে হারানো খুবই দুঃখজনক।

‘ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি (দেশে ফিরে) আসার পর থেকেই আব্দুল্লাহ সাহেবকে পেয়েছি, মনি (শেখ ফজলুল হক মনি) ভাইয়ের সঙ্গে তিনি ছিলেন। আমার নির্বাচন পরিচালনাই শুধু নয়, আমার নির্বাচনী এলাকার সম্পূর্ণ দেখাশোনা তাকে করতে হতো। রাজনীতিতে অনেক কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়েছে গোপালগঞ্জবাসী। যখনই যারা ক্ষমতায় এসেছে, সেটা জিয়াউর রহমান, এরশাদ, খালেদা জিয়া, তাদের যেন একটা লক্ষ্যই ছিল গোপালগঞ্জের ওপরে হাত দেওয়ার চেষ্টা। আমাদের বহু নেতাকর্মী নির্যাতিত হয়েছেন, তাদের ওপর অকথ্য অত্যাচার হয়েছে। সেই দুঃসময়গুলিতে সংগঠনকে ধরে রাখা, সংগঠনের নেতাকর্মীদের দিকে নজর দেওয়া, এ কাজগুলো অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে করে গেছেন আব্দুল্লাহ সাহেব।’

Comments