যুবলীগের মানবতার সেবা ও সাফল্যের ১ বছর

যুবলীগের মানবতার সেবা ও সাফল্যের ১ বছর

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ সপ্তম জাতীয় কংগ্রেসের পর এক বছর পার করেছে। এই এক বছরেই দলটি পূর্বের অবস্থা  থেকে ঘুরে দাড়িয়েছে। সুশৃঙ্খল সাংগঠনিক কর্মকান্ড, প্রয়োজনীয় সম্মেলন, দেশের খারাপ সময়ে এগিয়ে আসা, দলের স্বার্থে ভেদাভেদ ভুলে যাওয়া কিংবা নেতিবাচক কর্মকান্ড থেকে দূরে থেকে, মানবতার সেবার মাধ্যমে সর্বমহলে সফলতার প্রশংসাই কুড়িয়েছে সংগঠনটি। যুবলীগের বিভিন্ন কর্মতৎপরতায় এবং চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য, নির্দেশনায় তাদের মানবিকতা, আদর্শের বহি:প্রকাশ ঘটেছে। এ নিয়ে বিশেষ  বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে-

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাংলাদে্শের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং শোষিত নির্যাতিত মানুষের কল্যাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ যুব সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ। নানা সময়ে কিছু ক্ষমতালোভী রাজনীতিবিদের কারণে বিতর্কের মুখে পড়েছে সংগঠনটি। বিতর্কের কালিমা মুছে প্রতিষ্ঠাকালীন আদর্শে ফিরেছে যুবলীগ। মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে এসেছে যুবলীগ।

সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা করাকেই এখন যুবলীগের আদর্শ হিসেবে দেখছে সংগঠনটি। অর্থাৎ অতীতের সকল বিতর্ক পেছনে ফেলে জাতির পিতার আদর্শ বাস্তবায়নে শেখ মনির কাঙ্খিত যুবলীগ প্রতিষ্ঠা লাভের আলোর ঝলকানি এখন সংগঠনটি জুড়ে।

গত বছরের ২৩ নভেম্বর সপ্তম কংগ্রেসে যুবলীগের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির জ্যেষ্ঠপুত্র, পরিচ্ছন্ন ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত শেখ ফজলে শামস পরশ। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন যুবলীগের মাঠের রাজনীতির দীর্ঘ সময়ের ত্যাগী নেতা আলহাজ্ব মোঃ মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

দায়িত্ব গ্রহণের পর যুবলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন মূল উদ্দেশ্যে বাস্তবায়ণে গত ১ বছরে মানবিক রাজনীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে যুবলীগ। বিশেষ করে বৈশ্বিক মহামারি করোনা সংকটে সারা দেশে যুবলীগের মানবিক কর্মকান্ড সকলের নজর কেড়েছে।

চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের নির্দেশনায় মাঠপর্যায়ে সকল কর্মসূচি বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করেছেন সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ মাইনুল হোসেন খান নিখিল। মানবিক কাজে সন্তুষ্ট হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে যুবলীগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

দায়িত্ব গহণের পর যুবলীগকে আদর্শিক জায়গায় ফেরানোর দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন শীর্ষ দুই নেতা। সম্মেলনের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথমে দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তারা। শীতবস্ত্র নিয়ে ছুটে যান শীতার্ত ও বস্তিতে পোড়া অসহায়দের পাশে।

করোনা সংকটে মানবিকতার সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে যুবলীগ। সারা দেশে করোনায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে মানবিক যুবলীগ। কেন্দ্রীয়, ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণসহ সব মহানগর, জেলা-উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড যুবলীগের প্রতিটি ইউনিট অসহায় মানুষকে সহায়তা করে আসছে। করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় প্রতিটি স্তরের নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

যুবলীগের মাধ্যমে সরাসরি সাড়ে ৪৩ লাখ মানুষ খাদ্য সহায়তা পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে দেয়া রমজান ও ঈদ সামগ্রী এবং ভাইরাসের সুরক্ষা সামগ্রী পেয়েছে অন্তত এক কোটি মানুষ।

 

দুর্যোগকালীন সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা আসার পরপরই সারা দেশে যুবলীগকে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে মাঠে নামার আহ্বান জানান যুবলীগ চেয়ারম্যান। মাঠপর্যায়ে কর্মসূচি বাস্তবায়নে দিনরাত জীবন ঝুঁকি নিয়ে মাঠে নামেন সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ মাইনুল হোসেন খান নিখিল। বেশ কয়েকবার ভিডিও বার্তার মাধ্যমে যুবলীগসহ দেশবাসীকে সচেতন করাসহ স্বাস্থবিধি মেনে চলার অনুরোধ করেন শেখ ফজলে শামস পরশ।

করোনা সংকটের মধ্যেই বন্যা বাংলাদেশের জন্য নতুন দুর্যোগ হয়ে দাঁড়ায়। কেন্দ্রের নির্দেশনার পর সারা দেশে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ান যুবলীগের নেতাকর্মীরা। নৌকা, ট্রলারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বন্যার্তদের সহায়তা পৌঁছে দেন যুবলীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

করোনা ভাইরাসের শুরুতেই সারা দেশে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালায় যুবলীগ। প্রতিটি ইউনিটে মাইকিং এবং রাস্তার মোড়ে মোড়ে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। গত ৮ মার্চ করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর থেকে সুরক্ষাসামগ্রী মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হেক্সিসল ও সাবান বিতরণ শুরু হয়।

২৬ মার্চ অঘোষিত লকডাউন শুরুর দিন হতেই শুরু হয় খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি। করোনার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ও হতদরিদ্র মানুষের মাঝে সারা দেশে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেয়া হয়। শ্রমজীবী, গার্মেন্টস শ্রমিক, বিভিন্ন কারখানা শ্রমিক, রিকশা-ভ্যান চালক, প্রতিবন্ধী, অন্ধ, মুচি, হিজড়া, বেদে সম্প্রদায়সহ অসহায় মানুষকে খাদ্যসামগ্রী (চাল, ডাল, তেল, আলু, লবণ, সবজি, দুধ) ও নগদ অর্থ মানবিক সহায়তা দেয়া হয়। ট্রাক, রিকসা ও ভ্যানে করে বস্তিবাসীদের ঘরে ঘরে খাবার পৌছে দেয় যুবলীগের নেতাকর্মীরা।
শ্রমিক সংকটে অসহায় হয়ে পড়ে কৃষক। সারা দেশে কৃষকদের ধান কেটে বাড়ি তুলে দিয়ে মানবিকতার আরেক নিদর্শন দেখিয়েছে যুবলীগ।

এপ্রিলের শুরুতেই ঢাকা মহানগরের রোগীদের যাতায়াত সংকট বিবেচনা করে যুবলীগ ২৪ ঘণ্টা ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করে। এরপর বিভিন্ন মহানগর ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু হয়। একই সঙ্গে করোনা ভাইরাসসহ অন্যান্য রোগের নির্বিঘ্নে জরুরী চিকিৎসাসেবা পেতে সাধারণ মানুষের জন্য ২৪ ঘণ্টা টেলিমেডিসিন সেবাও চালু করে যুবলীগ। চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক-নার্সসহ স্বাস্থকর্মীদের জন্য রাজধানীর হাসপাতাল, জেলা উপজেলা হাসপাতাল, ক্লিনিক, স্বাস্থকেন্দ্রে সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণ করেছে যুবলীগ।

রমজান মাস জুড়ে কর্মসূচিতে ভিন্নতা আনে যুবলীগের হাইকমান্ড। খাদ্য সামগ্রির পাশাপাশি শুরু হয় ইফতার সামগ্রি ও রান্না করা খাবার বিতরণ। পুরো মাস ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও পান্থপথ মাঠে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়।

গত ২৮ অক্টোবর যুবলীগের সাংগঠনিক নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে কয়েক শতাধিক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধি অসহায় মানুষকে নতুন কাপড়, খাবার ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়। এসময় এসব অসহায় মানুষকে নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে মিলাদ ও দোয়া করা হয়।

এছাড়া মুজিববর্ষ উপলক্ষে বছরব্যাপী যুবলীগের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। কর্মসূচিটি কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত পালিত হচ্ছে।

গত আগস্ট মাস জুড়ে বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্ট নিহত সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় মানবিক কর্মসূচি পালিত হয়। পুরো মাস কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কোরআন খতম ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়। মূলত হাল ধরার পর থেকেই যুবলীগকে মানবিক কর্মকান্ডের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে মেলে ধরেছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক।

কারোনা ভাইরাসের কঠিন পরিস্থিতিতে এক মুহূর্তও বসে থাকেননি শেখ পরশ। ভার্চুয়াল মাধ্যম ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত মাঠপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা এবং অর্থ-সহায়তা দিয়েছেন। ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদেরও খোঁজ খবর নিয়েছেন। ক্যাসিনোকান্ডের পর অতি সতর্কতা অবলম্বন করে প্রতিটি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন শীর্ষ দুই নেতা।

করোনা সংকটের মধ্যে ‘আম্পান’ ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা আরেকটি দুর্যোগ হয়ে আসে। বন্যা ও আম্পান ঘূর্ণিঝড়ে মানুষকে সাইক্লোন সেল্টারে নেয়াসহ প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার বিতরণ ও সতর্কবার্তা পৌছে দিতে সরকারের পাশাপাশি অগ্রণী ভূমিকা রেখে কাজ করেছে যুবলীগের নেতা-কর্মীরা। বিভিন্ন জেলায় রাত জেগে যুবলীগের নেতা-কর্মীরা মানুষের জীবন বাঁচাতে কাজ করেছে। কয়েকটি জেলায় যুবলীগের নেতৃবৃন্দ নিজহাতে বেড়িবাঁধের ভাঙ্গা অংশ ঠিক করতে কাজ করেছে। করোনা সংকটে কাজ করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন যুবলীগের অসংখ্য নেতাকর্মী। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের ৫০ নং ওয়ার্ডের সভাপতি ‘সায়েম খন্দকার’ করোনা আক্রান্ত মানুষের পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে গিয়ে নিজের জীবন দিয়ে প্রমাণ করে গেছেন যুবলীগের ত্যাগ।

সাংগঠনিক কর্মকান্ড 

দায়িত্ব গ্রহণের পর যুবলীগের ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনে ক্যাসিনো, দুর্নীতি,  চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও বিতর্কমুক্ত যুবলীগ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ এবং সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ মাইনুল হোসেন খান নিখিল। নির্বাচিত হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই সংগঠনে শৃঙ্খলা ফেরাতে দেন কঠোর সাংগঠনিক নির্দেশনা। কেন্দ্রের পাশাপাশি মহানগর, জেলা-উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডপর্যায়ের যুবলীগকেও ঢেলে সাজাতে যুবলীগের নামে আত্মপ্রচারের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

জেলা-মহানগরাধীন উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড নেতারা পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড, বিলবোর্ড করার পূর্বে ওয়ার্ড নেতৃবৃন্দ ইউনিয়ন ও মহানগর নেতৃবৃন্দের, ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ উপজেলা নেতৃবৃন্দের, উপজেলা নেতৃবৃন্দ জেলা নেতৃবৃন্দের এবং জেলা-মহানগর নেতৃবৃন্দ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের অনুমতি নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। সংগঠনের অননুমোদিত কোনো ব্যক্তি পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড, বিলবোর্ড বানাতে পারবেন না। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড এবং মহানগর, মহানগরাধীন থানা, ওয়ার্ড, ইউনিট কমিটি বিলুপ্ত করা বা নতুন করে গঠন করার নির্দেশনা দেন চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক।

গত ৩০ ডিসেম্বর  অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন  নির্বাচন, যশোর-৬, গাইবান্ধা-২, বগুড়া-১, ঢাকা-৫, ঢাকা-১৮, সিরাজগঞ্জ-১ আসনের প্রতিটি নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে যুবলীগ। দুই সিটি কর্পোরেশন ভোটে যুবলীগ চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক প্রতিদিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নৌকার সমর্থণে ভোট প্রার্থনা করেন। সিরাজগঞ্জ, বগুড়া এবং গাইবান্ধার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক। তৃণমূলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে প্রতিনিধি সভার উদ্যোগ নেয়া হয়।

১৮ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার ঢাকা বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় মহানগর, জেলা-উপজেলাপর্যায়ের নেতারা অংশ নেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ। পরিচালনা করেন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ মাইনুল হোসেন খান নিখিল। সভায় প্রতিনিধিদের কাছ থেকে সাংগঠনিক তথ্য নেয়া হয়, এরপর তৃণমূলকে সুসংগঠিত করতে সাংগঠনিক নির্দেশনা দেন যুবলীগ চেয়ারম্যান।

এরপর ২ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম বিভাগী প্রতিনিধি সভা। নগরীর জামালখানে রিমা কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত যুবলীগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ।

যুবলীগের নেতা-কর্মীদের সৎ ও আদর্শবান হতে হবে

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শেখ ফজলে শামস পরশের আহ্বান জানান যুবলীগের প্রতিটি নেতা-কর্মীকে  আদর্শবান ও দেশপ্রেমিক হওয়ার । তিনি বলেন, মানুষের  প্রতি  ভালোবাসাই  ছিল  জাতির  পিতার  সবচেয়ে  বড়  আদর্শ।  সেই  আদর্শ  বিকশিত  করেছেন  রাষ্ট্রনায়ক  শেখ  হাসিনা। যুবলীগকে এই আদর্শ লালন ও ধারণ করতে হবে।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের উদ্যোগে ঢাকা বিভাগ আওতাধীন মহানগর, জেলা ও উপজেলার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও দপ্তর সপ্তাদকদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সেদিন তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন আমরা একটা ইমেজ সংকটের মধ্যে যুবলীগের দায়িত্ব নিয়েছি। আমাদের কি করতে হবে সেগুলোর মধ্যে দু’একটা জিনিস বলতে চাই। যুবলীগকে নিয়ে আমার একটা ভিশন আছে। প্রথমেই আমাদের শৃঙ্খলা আনতে হবে। শৃঙ্খলা ব্যাপক অর্থ বহন করে, এটা বলতে অনেক কিছুই বোঝায়। আমি  একটা বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করবো সেটা হচ্ছে আমাদের মধ্যে  যে ভেদাভেদ বা অর্ন্তদন্দ আছে এগুলো আমাদের পরিত্যাগ করতে হবে, দলের স্বার্থে।

সততাই শক্তি মানবতাই মুক্তি

এ সময় যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ মাইনুল হোসেন খান নিখিল সবাইকে মুজিব শতবর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, যুবলীগের প্রতিটি নেতাকর্মীকে সৎ এবং আদর্শবান হতে হবে। নেত্রীর উক্তি মনে রাখতে হবে, সততাই শক্তি মানবতাই মুক্তি। আপনাদের সুচিন্তিত্ব মতামত নিয়ে যুবলীগকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ্।

প্রতিনিধি সভায় বক্তব্য রাখেন, যুবলীগ ঢাকা জেলার সাধারণ সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান, গাজীপুর জেলার যুগ্ম-আহবায়ক সেলিম আজাদ, গাজীপুর মহানগর আহবায়ক মোঃ কামরুল ইসলাম সরকার রাসেল, যুগ্ম-আহবায়ক সাইফুল ইসলাম, সুমন আহম্মেদ শান্ত বাবু, শরীয়তপুর জেলা সভাপতি এম এম জাহাঙ্গীর, টাংগাইল জেলা সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন মানিক, মানিকগঞ্জ জেলা আহবায়ক আব্দুর রাজ্জাক রাজা, রাজবাড়ী জেলা আহবায়ক মোঃ জহুরুল ইসলাম।

এছাড়া কিশোরগঞ্জ জেলা আহবায়ক আমিনুল ইসলাম বকুল, যুগ্ম আহবায়ক এড. মীর মোঃ আমিনুল ইসলাম সোহেল,
মোঃ রুহুল আমিন, গোপালগঞ্জ জেলা সভাপতি জি এম সাহাবউদ্দিন আজম, সাধারণ সম্পাদক এমবি সাইফ (বি মোল্লা), নরসিংদী জেলা সভাপতি বিজয় কৃষ্ণ গোস্বামী, নারায়নগঞ্জ জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল কাদির, মুন্সীগঞ্জ জেলা ভারপ্রাপ্ত  সভাপতি মোঃ  শাহজাহান  খাঁন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফেরদৌস আলম খান, মাদারীপুর জেলা সভাপতি মোঃ আতাহার সরদার, সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রুবেল খাঁন ফদিরপুর জেলা আহবায়ক এইচ এম ফুয়াদ প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

সুশৃঙ্খল সংগঠন হিসেবে যুবলীগকে তৈরি করতে কাজ করছি 

যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে সামস পরশ বলেন, যুবলীগের পেছনে অনেকের ত্যাগ রয়েছে। অনেকের কষ্টে গড়ে তোলা এ সংগঠনের কথা আমরা ভুলে যাই। আমাদের শত্রু এখন বিরোধী সংগঠন নয়, নিজেরাই নিজেদের শত্রু। গত ২ মার্চ সোমবার দুপুর ১২টায় রিমা কমিউনিটি সেন্টারে বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমার বাবা যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা। যুবলীগের ঐতিহ্য রয়েছে। নানা কারণে যুবলীগের ইমেজ ক্রাইসিস তৈরি হয়েছিল। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন। আমরা কাজ করছি যুবলীগকে একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন হিসেবে তৈরি করতে। যুবলীগের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়ে যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে সামস পরশ বলেন, আপনাদের ভাইকে শত্রু বানাবেন না, ভাইদের শত্রু ভাববেন না। আপনারা যুবলীগের মান রক্ষা করবেন। আপনাদের কারণে যেন শেখ ফজলুল হক মণির হাতে গড়া যুবলীগের মাথা হেট না হয়। এসময় তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীর পক্ষে যুবলীগ নেতাকর্মীদের কাজ করার আহ্বান জানান।

যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে সামস পরশের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ মাইনুল হাসান খান নিখিলের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈমসহ যুবলীগের কেন্দ্রীয়, চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা কমিটির নেতারা। বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় ১৫টি সাংগঠনিক জেলা ও তার আওতাধীন বিভিন্ন ইউনিটের প্রায় ৫০০ প্রতিনিধি অংশ নেন।

কাপাসিয়া যুবলীগের সম্মেলন

তৃনমূল সংগঠিত করার অংশ হিসেবে গত ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা যুবলীগের সম্মেলন। সম্মেলনে শাখাওয়াত হোসেন প্রধানকে সভাপতি ও রাজিব ঘোষকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। কাপাসিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা যুবলীগের এ ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ। এতে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ মাইনুল হোসেন খান নিখিল, স্থানীয় সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমি, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম, এস এম আলতাফ হোসেন ও সেলিম আজাদ বক্তব্য দেন। এর আগে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে এবং শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে বর্ণাঢ্য এই সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের দলীয় নেতা-কর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে মিছিল করে ও বাদ্য বাজিয়ে স্কুল মাঠে সমবেত হতে থাকেন।

সপ্তম জাতীয় কংগ্রেস-এর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

২০১৯ সালের ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সপ্তম জাতীয় কংগ্রেসের মাধ্যমে শেখ ফজলে শামস পরশ-চেয়ারম্যান ও আলহাজ্ব  মোঃ মাইনুল হোসেন খান নিখিল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়। বিভিন্ন যাচাই-বাছাই এর মাধ্যমে গত ১৪ নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়। যা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।

Comments