যে কারণে খালেদা জিয়ার পুরস্কার ৩ বছর আগে প্রকাশ করেনি বিএনপি!

যে কারণে খালেদা জিয়ার পুরস্কার ৩ বছর আগে প্রকাশ করেনি বিএনপি!

আজ দুপুরে সংবাদ সম্মেলন ডেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুটি অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার কথা জানিয়েছে বিএনপি। বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ‘নিউজ দিনরাত২৪ ডট কম’ নামক একটি অনলাইন পোর্টালে কানাডিয়ান হিউম্যান রাইটস ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (CHRIO) এর এই অ্যাওয়ার্ডটি নিয়ে একটি নিউজ প্রকাশিত হয়েছিলো। যেখানে দাবি করা হয়েছিলো কোটি টাকার বিনিময়ে অ্যাওয়ার্ড কিনেছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদের প্রমাণাদিও প্রকাশ করা হয়েছিলো ওই প্রতিবেদনটি। ধারণা করা হচ্ছে বিএনপি কর্তৃক অ্যাওয়ার্ডের বিষয়টি প্রকাশের আগেই নিউজ দিনরাত অর্থ লেনদের বিনিময়ে অ্যাওয়ার্ডের তথ্য ফাঁস করে দেয়ায় তখন বিএনপি খবরটি প্রকাশ করেনি।

নীচে ২০১৮ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর নিউজ দিনরাত২৪ ডট কমে প্রকাশিত নিউজটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

কোটি টাকায় এবার কানাডা থেকে পুরস্কার কিনছেন বেগম জিয়া! বিপাকে পুরস্কারদাতারা।

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ পুরস্কার দিতে যাচ্ছে কানাডার নামসর্বস্ব একটি হিউম্যান রাইটস সংস্থা। এই পুরস্কার নিয়ে সংস্থাটির জনসংযোগ পরিচালকের সাথে লন্ডন থেকে বড় অংকের আর্থিক লেনদেনের প্রমাণসহ বেরিয়ে এসেছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য।

গত ৭ই সেপ্টেম্বর কানাডাস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনে একটি আমন্ত্রণপত্র পাঠায় ‘দি কানাডিয়ান হিউম্যান রাইটস ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (CHIRO)’ নামের সংগঠনটি । আমন্ত্রনপত্রে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ‘মাদার অফ ডেমোক্রেসি’ পুরস্কার দেওয়ার জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর রবিবার একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে বলে জানায় সংস্থাটির কমিউনিকেশন এসোসিয়েট ও পাবলিক রিলেশন ডিরেক্টর আর্সেলি ডিনাইস গ্র্যাঞ্জা।

বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান নিয়ে কোন তথ্যই জানা নেই সংস্থাটির ইন্টারন্যাশনাল মিশন ডিরেক্টর ডক্টর ম্যারিও গুইলিম্বোর কাছে। এদিকে কানাডিয়ান সিকিউরিটি ইন্টিলিজেন্স সার্ভিসের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে আর্সেলি ডিনাইস গ্র্যাঞ্জার সাথে লন্ডন থেকে অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনের তথ্য ও প্রমাণাদি। কানাডায় তদন্ত শুরু হয়েছে এই সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে।

সংস্থাটির সম্পর্কে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, এটির নাম মাত্র একটি অফিস রয়েছে যেটির ঠিকানা – 1725 Finch Avenue West Torento, Ontario, MSN 1M6, Canada এবং উক্ত অফিসের টেলিফোন নাম্বার +১৪১৬৬৩৫৭৮০৫। কিন্তু অফিসে ফোন করে তাৎক্ষনিক কাউকে পাওয়া যায়নি। আমাদের প্রতিনিধি সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে দেখেছেন এটি আবাসিক একটি বাসার নিচ তলায় মাত্র দুই রুমের একটি অফিস। কর্মকর্তা কর্মাচারি বলতে কেউই উপস্থিত ছিলেন না। এমনকি উইকিপিডিয়াতেও তাদের সংগঠন এবং কার্যক্রম সংক্রান্ত কোন তথ্য নেই। তবে তাদের ওয়েব সাইটে বাংলাদেশসহ আরও কয়েকটি দেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার উল্লেখ থাকলেও খোঁজ নিয়ে বাংলাদেশে ওদের কার্যক্রমের কোন রকমের বিবরণ পাওয়া যায়নি। এদের ফেসবুক পেজে ঢুকে দেখা যায় লাইক সংখ্যা মাত্র ৩ হাজার ৯০৪টি।


তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, সংস্থাটির কমিউনিকেশন এসোসিয়েট ও পাবলিক রিলেশন ডিরেক্টর আর্সেলি ডিনাইস গ্র্যাঞ্জা বাংলাদেশে একটি এজেন্ট নিয়োগ দিয়েছেন যিনিই বিএনপির সাথে সমন্বয়য়ের কাজটি করছে।   

২০১৭ সালের জানুয়ারিতে বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন বলে রায় দেয় খোদ কানাডার ফেডারেল কোর্ট। বিএনপির সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের একজন কর্মীর রাজনৈতিক আশ্রয় সংক্রান্ত জুডিশিয়াল রিভিউর আবেদনে ফেডারেল কোর্টের বিচারক জাস্টিস ব্রাউন বিএনপিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ বলে অভিহিত করেন। একই সালের ১২ মে দেশটির ফেডারেল কোর্টের বিচারকের দেয়া রায়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে অভিহিত করা হয়।

এমন একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের নেতাকে কিভাবে কানাডারই একটি সংস্থা ‘মাদার অফ ডেমোক্রেসি’ পুরস্কার দেয় এ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন কানাডিয়ান সিকিউরিটি ইন্টিলিজেন্স সার্ভিস। হিউম্যান রাইটস সংস্থাটির পাবলিক রিলেশন ডিরেক্টর গ্র্যাঞ্জার বিরুদ্ধে এর আগেও আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে একাধিক পুরস্কার প্রদান এবং এ সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ আছে।

তবে কানাডার আদালত কর্তৃক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে অভিহিত হওয়ার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল বিএনপি তাদের ভাবমূর্তি পুণরুদ্ধার তথা দুর্নাম ঘোচাতে কানাডার এই সংস্থাটির সাথে অর্থের বিনিময়ে ‘মাদার অফ ডেমোক্রেসি’ পুরস্কারের চুক্তি করেছে বলে অনুসন্ধানে প্রমাণ মিলেছে বলে জানান কানাডিয়ান সিকিউরিটি ইন্টিলিজেন্স সার্ভিসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ডেভিড ভিগনাউল্ট।

কানাডিয়ান ১ লক্ষ ৬০ হাজার ডলার আর্থিক লেনদের এই চুক্তি সম্পাদন প্রক্রিয়ায় কানাডিয়ান হিউম্যান রাইটস ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর অফ মিশন ইন এশিয়া মোঃ মোমিনুল হক (বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের ভাগ্নে), পাবলিক রিলেশন ডিরেক্টর আর্সেলি ডিনাইস গ্র্যাঞ্জা এবং বাংলাদেশী রাজনৈতিক দল বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ূন কবিরের সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা। আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টসও ইমেইল বার্তায় পাঠিয়েছেন কানাডিয়ান সিকিউরিটি ইন্টিলিজেন্স সার্ভিসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ডেভিড ভিগনাউল্ট।”

Comments