লকডাউনে ওজন কমিয়েছি: অপু বিশ্বাস

লকডাউনে ওজন কমিয়েছি: অপু বিশ্বাস

ঢাকাই ছবির কুইন খ্যাত চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। করোনায় গৃহবন্দি জীবনে আছেন। বাসায় থেকে নিজকে তৈরি করছেন নতুন কাজের জন্য। একই সঙ্গে সন্তানকে সময় দিচ্ছেন এই নায়িকা। অপু বিশ্বাস করোনার শুরুতে অসহায়-সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের পৌঁছে দিয়েছিলেন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সচেতনতামূলক কার্যক্রম করেছেন। সার্বিক বিষয় নিয়ে তিনি বলেছেন ।


কেমন আছেন, করোনায় কীভাবে সময় কাটছে আপনার?
ভালো আছি। ঘরের কাজ, সন্তানকে সময় দেয়া নিজেকে সময় দেয়ার মধ্যে কাটছে। পরিকল্পনা করছি গড যদি সেকেন্ড টাইম বাঁচার সুযোগ করে দেয়, ইন্ডাস্ট্রিকে কাছ থেকে দেখার চেষ্টা করবো।
করোনার শুরুতে আপনাকে মানবসেবার দেখা গিয়েছে
আসলে নিয়মিতভাবে কিছু করতে পারিনি। চেষ্টা করছিলাম ভালো কিছু করার। ওই সময় ফেস মাস্ক, স্যানিটাইজার থেকেও মানুষের খাবার দরকার ছিল। আমার মনে হয়েছিল মানুষ নিজেকে সুরক্ষিত তখনই রাখতে পারবে, যখন ক্ষুধা থাকবে না। ওই সময়টা মানুষের জন্য একদম নতুন ছিল, মানুষ বুঝছিল না আসলে কী করবে, কী করা উচিৎ। আমরা যারা পরিচিত ফেস, যাদের পাবলিক পছন্দ করে, যারা ঘরে আছে, মানুষকে সহযোগিতা করতে চায় তাদের উৎসাহ দিতে নিজের অবস্থান থেকে কাজ করেছি, মানুষের সেবা করেছি।
শুনছি লকডাউনে ওজন কমিয়েছেন?
সত্যি বলতে প্রথমে এক মাসের মতো আমিও নিজেকে ছেড়ে দিয়েছিলাম। লকডাউনে কাজ থেকে দূরে থাকায় মনে হয়েছিল কন্ট্রোল করে কী লাভ। এরপর আমি দেখলাম, এটা আমার ভুল আইডিয়া। কারণ মানুষ কতক্ষণ বেঁচে থাকবে এটা যখন অনিশ্চিত, কিন্তু যতক্ষণ বেঁচে আছি সুন্দরকে আগলে রাখবো। এরপর পরের মাস থেকে মনে হলো নিজেকে সুন্দর করে উপস্থাপন করা দরকার। তাতে দেখি মন ভালো থাকে। নিজেকে নতুন করে তৈরি করতে ইচ্ছে জাগে। আমি যেটা করেছি কিছুটা ওয়েট লস করেছি, ওয়েট গেইন করিনি।
আপনার সন্তানকে কীভাবে সময় দিচ্ছেন?
আমি ওকে দুই বছর বয়সে স্কুলে দিয়েছি। এখন তার সাড়ে তিন চলে। সে এখন কেজিতে পড়ছে। স্কুল থেকে অনলাইনে ক্লাস হচ্ছে। আহামরি তো ক্লাস না, যা হয় ওটা করে। আমি অনেক বেশি চেষ্টা করি কন্ট্রোলে রাখার। কারণ বাচ্চাদের যেটা বেশি হয় টিভি, মোবাইলে তারা ঝুঁকে থাকে। আমি এখন নিজেকে টিভি বানিয়েছি, আমি যে বাক্য বলি ও যেন আসক্ত হয়। পরিপূর্ণ সময় জয়কে দিচ্ছি। ওর কোনটা ভালো হবে শেখাচ্ছি। ও অনেক কিছু সুন্দরভাবে বলতে পারে। যদিও তার মুডের ওপর নির্ভর করে। ওর খাবারের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছি। ও একটু ব্যতিক্রম খায়।
বেঙ্গল মাল্টিমিডিয়ার চলচ্চিত্র শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ-২ নিয়ে কতটুকু আশাবাদী? 

আমি শতভাগ আশাবাদী ছিলাম। উপযুক্ত সময়ে মুক্তির কথা ছিল। আসলে পৃথিবী এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ভালো আর মন্দের পার্থক্য করা মুশকিল। কিছু মানুষের মুখে মুখে কথা, ফিউচার প্লান কি। অনেকের চাওয়া ফ্লাট কেনা, বাড়ি কেনা, ব্যবসা করব, তার থেকে মনে হয় ২০২০ সাল পার করে ২০২১ সালে যেয়ে যদি দেখি বেঁচে আছি- এটাই আমাদের বড় অর্জন হবে। সেই জায়গা থেকে দুঃখ নিয়ে বলবো, পৃথিবী শান্ত হলে বলব শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ-২ কোন জায়গায় দাঁড়াবে। উপর আল্লাহ যদি ঠিক করে দেন, এই সিনেমা নিয়ে আশাবাদী, দর্শক একটা বিনোদনমূলক চলচ্চিত্র উপহার পাবেন।
বাপ্পি চৌধুরী সহশিল্পী হিসেবে কেমন?
সে খুব ভালো অভিনেতা, এতে সন্দেহ নাই। অনেক হেল্পফুল আর্টিস্ট। আমি তো অনেক দিন পর অন্য কোনো হিরোর সঙ্গে কাজ করেছি, সেই হিসেবে রেসপন্স ভালো ছিল। ডায়ালগ ডেলিভারি ভালো করে।
পশ্চিমবঙ্গে আপনার গ্রহণযোগ্যতা দেখা যায়, কারণ কী?
আসলে ভক্ত যেখানেই থাকুক না কেন প্রত্যেক অভিনয়শিল্পীর জন্য এটা অর্জন। আমি জীবনে অ্যাওয়ার্ড না পেলেও দর্শক আমাকে ভালোভাবে গ্রহণ করেন- এটাই আমার অ্যাওয়ার্ড। এটা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
এছাড়া আসলে অনেক বেশি ছবিতে অভিনয় করে ফেলেছি। এটার জন্য হয়তো পশ্চিমবঙ্গে গ্রহণযোগ্যতা। দুই বাংলার সিনেমা তো একই সূত্রে গাঁথা। অনেক অভিনয়শিল্পী দেখা যায় যারা কলকাতার, কিন্তু তাদের ফ্যামিলির অতীত জীবন বরিশাল, নোয়াখালী, যশোর ইত্যাদি জায়গার। সেই জায়গা থেকে একটা নাড়ির টান তো থাকে। আর কোনো না কোনো আত্মীয় এই দেশের। সেই জায়গা থেকে আমাদের দেশের সিনেমার গান তারা হিউজ দেখে। কিছু ভক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেখেছি তাদের ফোনে যদি ১০টা গান রাখার সুবিধা থাকে, সেখানে তারা ৭-৮টা গান এদেশের রাখে। এছাড়া তারা এদেশের আর্টিস্টদের লাইফস্টাইল, সিনেমা গান, ইন্টার্ভিউ দেখেন। দুই বাংলার নাড়ীর টান থেকে এই আদানপ্রদান।
এই সময় সচেতনতামূলক কী কাজ করছেন?
খুব বেশি এই ধরণের কাজে থাকতে পারিনি। এটা আমার ব্যর্থতা। কারণ আমার ছোট বাচ্চাকে সময় দিতে হয়। আমার সমর্থ ও ইচ্ছা শক্তি থেকে করছি। মানুষের কাছে রিস করার চেষ্টা করছি। মাঠে না থাকলেও মানুষের কাছে পৌঁছাতে পেরেছি।ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? 

প্রথম কথা হচ্ছে, এবারের যাত্রায় বেঁচে গেলে যেখান থেকে আমার পরিচিতি সেই জায়গায় শক্তভাবে কাজ করার চেষ্টা করবো। সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করার চেষ্টা করবো। সিঙ্গেল মাদারদের নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে আছে। তাদের নিয়ে মোটিভেশনাল স্পিস দেবো, কারণ আজকাল মানুষ অযৌক্তিক হতাশায় ভোগে। জীবনে অংশ হলো ভালো ও খারাপ। এগুলো সহজে নিতে হয়। 

তারকাদের জীবনের হতাশা কেমন, কীভাবে দেখেন?সত্যি বলতে প্রত্যেক মানুষকে আগে স্বাভাবিক হতে হবে। স্বাভাবিক জীবন যখন থাকবে অস্বাভাবিক কিছু আমাদের ছুঁতে পারবে না। আমার মনে হয়, পানি যেমন পাত্রে ঢাললে সেটা বিভিন্ন রকমে ধারণ করে। সেটা কালার থেকে আকার পর্যন্ত। প্রত্যেক মানুষকে পানির মতো স্বচ্ছ হওয়া দরকার। যতো স্বচ্ছ যতো পাতলা, ততবেশি আকার ও কালার ধারণ করতে পারবে। তাতে করে জীবনে সুখ আসবে। আমাদের ছোট জীবনে কেউই বাঁচবো না, কখনও না কখনও মরতে হবে। মৃত্যু তিন ধরণের- কেউ মারে, কেউ আত্মহত্যা করে, কেউকে এমনই মরতে হয়। এর মধ্যে থেকে আমরা এমনি মরে যাওয়া বেছে নেবো। উপর আল্লাহ আমাদের যখন মারবেন, জন্ম তিনি যখন দিয়েছেন, ইচ্ছেটা ওনার ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিৎ। হতাশাগ্রস্ত জীবন যাপন করা ঠিক না। কারণ জীবনে উত্থানপতন না থাকলে জীবন কী করে হয়, তবে তো আমরা শিশু। আমরা যেহেতু বুদ্ধিমান, প্রফেশনে আছি, মানুষকে ভালো কাজ উপহার দিচ্ছি, সেই জায়গা থেকে আমাদের মধ্যে ঝামেলা হবে। বুদ্ধি থাকলে বিবেচনা থাকে, বুদ্ধি না থাকলে বিবেচনা থাকে না, আর বিবেচনার মধ্যে ভুলভ্রান্তি আছে। এমন কিছু করা উচিৎ না যেটার পর জীবনে আরও অনেক দায়িত্ব থেকে যায়।
interview – rtv online

Comments