সচিবালয় আগারগাঁওয়ে স্থানান্তর করতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সচিবালয় আগারগাঁওয়ে স্থানান্তর করতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশ সচিবালয়কে আগারগাঁওয়ে স্থানান্তরের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাজধানীর আবদুল গনি রোডে অবস্থিত বর্তমান সচিবালয়ে আর নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণ না করারও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে আলোচ্যসূচির বাইরে আলোচনার সময় তিনি এই নির্দেশনা দেন। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে গতকালের বৈঠকে বাংলাদেশ মেরিটাইম অঞ্চল আইন-২০১৯ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। খসড়া আইনে সমুদ্র সন্ত্রাস করতে গিয়ে হত্যার জন্য মৃত্যুদন্ড, জলদস্যুতার জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। সূত্র জানায়, বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সচিবালয়ে স্থানসংকুলানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, আবদুল গনি রোডে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) এবং খাদ্য ভবনের মধ্যবর্তী স্থানে বিপুল পরিমাণ সরকারি জায়গা রয়েছে। সেখানে ভবন নির্মাণ করে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দফতরের কর্মকর্তাদের বসার জায়গা তৈরি করা যেতে পারে।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিপরিষদ সচিবের ওই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে বলেন, মুক্ত বাতাস দরকার। খালি জায়গা রাখা দরকার। খালি জায়গা পেলেই বিল্ডিং করার চিন্তা বাদ দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দেন, যতদ্রুত সম্ভব সচিবালয়কে আগারগাঁওয়ে স্থানান্তর করার। একই সঙ্গে বর্তমানে সচিবালয় যেখানে রয়েছে সেখানে যেন আর কোনো নতুন ভবন নির্মাণ না করা হয় সেই নির্দেশনাও দেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বৈঠকে উপস্থিত গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়েছি। লুই কান-এর নকশা অনুযায়ী আগারগাঁওয়ে যেখানে প্রতি বছর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা হয়ে থাকে সেই স্থান এবং চন্দ্রিমা উদ্যানের কিছু অংশ নিয়ে সচিবালয় স্থাপনের কাজ শুরু করব। তিনি জানান, নতুন সচিবালয়ে গাড়ি পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা, ফুড কোর্ট, সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ যা যা থাকা দরকার তার সবই করা হবে। এক কথায় আধুনিক এবং দৃষ্টিনন্দন সচিবালয় কমপ্লেক্স করা হবে। শ ম রেজাউল করিম জানান, বর্তমান সচিবালয় কমপ্লেক্সের ভিতরে আর কোনো নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে না। তবে যেগুলো অনুমোদন হয়ে গেছে সেগুলো নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হবে। তাছাড়া একসঙ্গে তো আর সচিবালয়ের সব দফতর স্থানান্তর করা সম্ভব নয়। ধীরে ধীরে করতে হবে। নতুন সচিবালয় স্থাপন না হওয়া পর্যন্ত বর্তমানটিতেই কাজ চালাতে হবে।

জলদস্যুতার শাস্তি যাবজ্জীবন : বৈঠক শেষে বিকালে সচিবালয়ে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভা বাংলাদেশ মেরিটাইম অঞ্চল আইন-২০১৯ এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে। সাগরে জলদস্যুতার অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রেখে বাংলাদেশ মেরিটাইম অঞ্চল আইন-২০১৯ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, খসড়া আইনে জলদস্যুতার শাস্তি হচ্ছে জলদস্যুতা, সশস্ত্র চুরি, সমুদ্র সন্ত্রাস করতে গিয়ে কেউ খুন করলে মৃত্যুদন্ড । আর জলদস্যুতা বা সমুদ্র সন্ত্রাসের শাস্তি হচ্ছে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদন্ড । এ ছাড়া দস্যুতা করে যা সে লুট করবে, তার জন্য জরিমানা হবে। আর কোনো ব্যক্তি জলদস্যুতা বা সমুদ্র সন্ত্রাসের চেষ্টা বা সহায়তা করলে সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তিনি জানান, অন্য কোনো দেশের লোক বাংলাদেশের জলসীমায় এসে এসব অপরাধ করলে একই শাস্তি হবে। রাষ্ট্রীয় জলসীমায় চলাকালে কোনো বিদেশি জাহাজে অপরাধ সংঘটিত হলে অপরাধী গ্রেফতার ও তদন্ত পরিচালনায় এ আইন প্রযোজ্য হবে।

Comments