সেনানিবাসে ‘অবাঞ্চিত’ হওয়ার ‘তথ্য গোপন’; নাটকের অবতারণা চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী’র!

সেনানিবাসে ‘অবাঞ্চিত’ হওয়ার ‘তথ্য গোপন’; নাটকের অবতারণা চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী’র!

চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী। হতে চেয়েছিলেন সেনাপ্রধান! রানা প্লাজা ধ্বংসের পর সাভারের নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে উদ্ধার অভিযানের নেতৃত্ব দিয়ে বনেছিলেন ‘হিরো’।

অবশ্য সেই ট্র্যাজেডিতেই নিজের উজ্জ্বল হওয়া আশার করুণও সমাধি ঘটে আলোড়ন সৃষ্টিকারী একটি নাটক মঞ্চায়নে।

সঙ্গে একাধিক বিয়ে আর নারী কেলেঙ্কারীর ঘটনা তো রয়েছেই। সেনা শৃঙ্খলা পরিপন্থী এসব কর্মকান্ডের কারণেই কীনা বছর দেড়েক আগেই তাকে দেশের সব সেনানিবাসে ‘অবাঞ্চিত’ ঘোষণা করা হয়েছে।

নিজের বিরুদ্ধে সেনা সদর দপ্তরের শাস্তিমূলক এমন ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি রীতিমতো ‘গোপন’ করেছেন।

কথিত অনলাইন টকশোতে যুক্ত হয়ে তাকে ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশ বা সিএমএইচে চিকিৎসা করতে না দেওয়ার নেপথ্য কারণ পুরোপুরি চেপে দিয়ে উল্টো সরকার ও সেনাবাহিনী নিয়ে কুৎসাচারের মাধ্যমে নানামুখী অপতৎপরতা শুরু করেছেন।

অথচ ভুলেও একবার বলেননি তিনি একজন পিএনজি অর্থাৎ সকল সেনানিবাসে ‘অবাঞ্চিত’ ঘোষিত।

এসবের মাধ্যমেই মূলত আলোচনায় আসার চেষ্টা করছেন রাজনীতি আর ক্ষমতার ‘খোয়াব’ দেখতে শুরু করা এ সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল।

এক সময় তিনি স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ডিজি, আর্টডকের জিওসি ও ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্টেরও দায়িত্ব পালন করেছেন।

সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল হিসেবে ২০১৮ সালের ১ জুন অবসরে গিয়ে ‘ডুব’ দিলেও হঠাৎ করেই পুরনো স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় যেন পুড়ছেন। যুক্তরাজ্যে পলাতক ও দন্ডিত বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অঙ্গুলী হেলনে নীতি বাক্যে ফেনা তুলছেন মুখে।

হাত মিলিয়েছেন একই চক্রের চিহ্নিত রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার পলাতক আসামি কথিত মিডিয়াম্যান কনক সারওয়ারের সঙ্গেও।

কনকের উপস্থাপনায় সম্প্রতি একটি অখ্যাত অনলাইন ইউটিউব চ্যানেলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট, প্রধানমন্ত্রী, সেনাবাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, সেনাপ্রধান, গণতন্ত্র ও বাক স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ঢালাও মিথ্যাচার করেছেন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী।

সূত্র মতে, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী মেজর অবস্থা থেকেই নারী লিপ্সু হিসেবে অন্যান্য কর্মকর্তাদের কাছে পরিচিত ছিলেন।

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নির্লজ্জভাবে নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন।

বিশেষ করে নিজের প্রথম স্ত্রী’র সঙ্গে বিয়ে বিচ্ছেদের অনেক আগে থেকেই একটি টিভি চ্যানেলের উপস্থাপিকার সঙ্গে অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন। বের হন প্রমোদ ভ্রমণে; দেশের বিভিন্ন জায়গায় এমনকি বিদেশেও একত্রে অভিসারে যান বিভিন্ন সময়ে।

এ বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সেনা কর্তৃপক্ষ তাকে বারবার সতর্ক করেন। কিন্তু ‘কয়লা ধুলে ময়লা যায় না’ প্রবাদের মতোই নিজেকে আর বদলাতে পারেননি চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী।

কোন অনুমতি না নিয়েই প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে বর্তমান স্ত্রীকে নিয়ে বিয়ে করার পূর্ব থেকেই সেনানিবাসে লিভ টুগেদার শুরু করা তাঁর দ্বিতীয় বিয়ের বর্ণাঢ্য আয়োজন সামরিক ও অসামরিক পরিমন্ডলে ধুম সমালোচনা তৈরি করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ নিয়ে ট্রলের হিড়িক পড়ে যায়।

২০১৮ সালের ১৬ আগস্ট প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে ওই বছরের ৩ নভেম্বর রাজসিক কায়দায় তাকে বিয়েও করেন।

এলপিআরে থাকা অবস্থায় সেনা নিয়মের সব আইন-কানুনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ২০১৮ সালের ২১ নভেম্বর সাভার গলফ ক্লাবে মেসকিট পড়ে বাগদান অনুষ্ঠানে হাজির হন।

একাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মকর্তা কালের আলোকে জানিয়েছে, দ্বিতীয় বিয়ের পর নিজের আরও নৈতিক স্খলনের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী।

অনেক নারীর সঙ্গে তাঁর রুচিহীন কথপোকথন আলোচনা-সমালোচনার মূল উপজীব্য হয়ে উঠে।

এসব বিষয়াদি দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন করে। এসব কারণেই তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে সেনা সদর দপ্তর।

তাঁর অপকর্ম এবং দু:শ্চরিত্রের কারণে ২০১৯ সালের মার্চের শেষের দিকে তাকে সকল সেনানিবাসে প্রবেশে ‘অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়।

জানা যায়, কথিত কনক সারওয়ারের সঙ্গে অনলাইন টকশো’তে তিনি প্রধানমন্ত্রী, সেনাপ্রধানসহ সেনাবাহিনীর মতো একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর বিরুদ্ধে বানোয়াট ও ভিত্তিহীন প্রচার-প্রপাগান্ডা চালিয়ে যাচ্ছেন।

অথচ কর্নেল হিসেবেও বিডিআর’এ চাকুরিকালে বিএনপি ঘরনাদের অতি আস্থাভাজন ছিলেন বলে নানা কথাবার্তা সেই সময়েই চাউর ছিল।

এমনকি চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী বিএনপি’র শাসনামলে একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের মা’কে ‘মা’ ডেকে প্রমোশনও বাগিয়ে নেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

একাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চরিত্রহীন চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীর ধৃষ্টতা এবং পানি ঘোলা করে মাছ শিকারের এই কূটকৌশলে চরম লজ্জা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তার এমন অসত্য ও বিভ্রান্তিমূলক উচ্চারণকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখানও করছেন।

Comments