হেফাজত থেকে বহিস্কার হচ্ছেন মামুনুল হক!

হেফাজত থেকে বহিস্কার হচ্ছেন মামুনুল হক!

হেফাজত ইসলাম থেকে বহিস্কার করা হচ্ছে শায়খুল হাদিস মামুনুল হক কে। সংগঠনের ইমেজ রক্ষার্থে এই স্বীদ্ধান্ত নিচ্ছেন হেফাজতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। নারী কেলেঙ্কারি সহ বেশকিছু বিতর্কিত কর্মকান্ডে মামুনুলের সম্পৃক্ততায় এই স্বীদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে হেফাজত ইসলাম।

গত শনিবার (৩ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের রয়্যাল রিসোর্টে নারীসহ সময় কাটাতে গিয়ে স্থানীয় জনগণের হাতে ধরা পড়েন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হক। শনিবার রয়াল রিসোর্টের ৫ম তালার ৫০১ নম্বর কক্ষে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। উক্ত ঘটনার পর নানা মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। চারদিকে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়।

হেফাজতে ইসলামের ভেতরেই এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। দায়িত্বশীল পদে থাকা নেতার এমন আচরণে সংগঠনটি ইমেজ সংকটে পরেছে বলে মনে করছেন অনেকে। উদ্ভুত পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং করনীয় নির্ধারন করতে এ ধর্মীয় সংগঠনটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক ফোরাম তেজগাঁওস্থ একটি বাসায় জরুরী গোপন বৈঠকে মিলিত হোন। সভায় তারা একমত হোন যে মামুনুলের নৈতিক স্খলন হয়েছে। সংগঠনের সুনাম সে ক্ষুন্ন করেছে।

সভায় উচ্চপর্যায়ের সকল নেতৃবৃন্ধ উপস্থিত ছিলেন বলে দায়িত্বশীল সূত্র থেকে বলা হয়েছে। সভায় মামুনুল হকের রিসোর্ট কাণ্ড নিয়ে দ্বিস্তর আলোচনা হয়। সংগঠনটির বেশিরভাগ সদস্য ক্ষুব্ধ এবং মামুনুলে এমন কাজে ধর্মীয় সংগঠনটির ইমেজ সংকটে পরেছেন বলে মনে করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সভায় উপস্থিত একজন বলেন, সভায় আমাদের নীতিনির্ধারক ফোরামের মোটামুটি সবাই উপস্থিত ছিলেন। বেশিরভাগ সদস্য মামুনুল হককে দায়িত্ব থেকে অপসারণের পক্ষে মত দিয়েছেন। সেই সাথে ভবিষ্যতে যাতে কেউ এমন অপকর্ম করতে না পারে সেই মর্মে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

এদিকে ইতিমধ্যে হেফাজত নেতা ফয়জুল করীম কাসেমীর একটি অডিও ক্লিপ ফাঁস হয়েছে। সেই ক্লিপে সে স্পষ্টতই মামুনুল হকের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার কথা বলেছেন।

মামুনুল হকের এমন কর্মকাণ্ড নতুন নয়। এর আগে ১৯৯৪ সালে ঢাকা মোহাম্মদপুরে জামিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসায় ছাত্র থাকাকালীন সময়ে মিশকাত/ফজিলত জামাতে শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় এক শিশুর সাথে সমকামীতায় ধরা পরলে প্রমাণ সাপেক্ষে উক্ত মাদ্রাসার নায়েবে মুতামিম (ভাইস প্রিন্সিপাল) মুফতি মানসুরুল হক তাকে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করেন। এছাড়া পড়াশোনা শেষ করে তিনি যখন সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলাস্থ জামিয়া নেজামিয়া বেতুয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করার সময় নুরুল আলক নামক এক শিক্ষার্থীকে সমকামীতায় বাধ্য করেন। যা প্রমাণিত হওয়ার পর থাকে উক্ত মাদ্রাসা থেকে অব্যহতি প্রদান করা হয়।

উক্ত বৈঠকে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা নুরুল ইসলাম, নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল আউয়াল, মাওলানা মাহফজুল হক, অধ্যাপক আহমদ আব্দুল কাদের, মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা ফজলুল করিম কাসেমী, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, মাওলানা খুরশিদ আলম কাসেমী, উপদেষ্টা মাওলানা আবুল কালাম উপস্থিত ছিলেন বলে সূত্র থেকে জানা গেছে।

Comments