১০২ বল খেলে মাত্র ৭ রান!

১০২ বল খেলে মাত্র ৭ রান!

হারারে টেস্টে প্রথম ইনিংসের বাংলাদেশের ব্যাট করেছে ওয়ানডে গতিতে। আর দ্বিতীয় ইনিংসটি অনেকটা টি-টোয়েন্টির গতিতে হয়েছে।

প্রথম ইনিংসে ব্যর্থ সাদমাম ইসলাম ও নাজমুল হোসেন শান্ত দ্বিতীয় ইনিংসে দুজনেই সেঞ্চুরি হাঁকালেন।

বিশেষ করে সাদা জার্সিতে শান্ত যেভাবে ব্যাট চালালেন তা ছিল অবিশ্বাস্য। ১১৮ বলে ১১৭ রান করেছেন তিনি। যেখানে ৬টি ছক্কা আর ৫টি চারের মার রয়েছে। শান্ত ফিফটি করেছিলেন ৬০ বলে। আর সেই ফিফটিকে তিন অংকের ম্যাজিক ফিগারে নিয়ে যেতে খরচ করেন মাত্র ৪৯ বল।

কেউ বিশ্বাস করবে এটি একটি টেস্ট ইনিংস! ওপেনার সাদমানও কম যাননি। ১৯৬ বলে ১১৫ রান করেছেন তিনি। ছক্কা একটিও না হাঁকালেও ৯ বার সীমানার বাইরে বল পাঠিয়েছেন।

তবে এ দুজনের ইনিংসের ঠিক বিপরীতটি ঘটিয়েছেন জিম্বাবুয়ের ওপেনার তাকুজুয়ানাশে কাইতানোর। অসম্ভব ধৈর্যের এক ইনিংস খেললেন তিনি। ১০২ বল মোকাবিলা করে মাত্র ৭ রান করেছেন।

অপরপ্রান্তে সতীর্থ দলীয় অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেলর যখন চার মারছেন, তখন কথাই বলছিল না কাইতানের ব্যাট। এ যেন কথা না বলার প্রতিজ্ঞা করেছে তার ব্যাট। মজার ছলে কাব্য করা যেতে পারে – যেন উইকেটেই পেতেছেন শয্যা!

এদিকে তাসকিনের দুই ওভারে পাঁচ বাউন্ডারি আর সাকিব-মিরাজের ওভারে দুটি করে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে টেলর ৩৩ বলেই ফিফটি ছুঁয়ে ফেলেন।

এদিকে তখনও রানের খাতা খুলতে পারেননি কাইতানো। অবশেষে ইনিংসের ১৮তম ওভারে ইবাদত হোসেনের বলে সিঙ্গেল নিয়ে রানের খাতা খুলেন তিনি। কাইতানোর স্কোর তখন ৩৮ বল খেলে ১ রান!

এদিকে লফটেড শট, রিভার্স সুইপ, স্কুপ খেলে সেঞ্চুরির দিকে তরতার করে এগিয়ে যাচ্ছেন টেলর। তবে সেঞ্চুরি দেখা পাননি।

৭৩ বলে ৯১ রান করে মিরাজের হাতে কট এন্ড বোল্ড হন টেলর। টেলর-কাইতানোর ৯৫ রানের জুটি ভাঙে। আর অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, এই ৯৫ রানের জুটিতে কাইতানোর অবদান মাত্র ২!

শেষ পর্যন্ত কাতাইনোর ধৈর্যের ঘুম ভাঙান সাকিব। দারুণ এক আর্ম ডেলিভারিতে কাইটানোকে এলবিডব্লিউ করেন।

আউট হওয়ার স্কোরবোর্ডে দেখা যায় ১৪৬ মিনিট ক্রিজে কাটিয়েছেন এই অভিষিক্ত ওপেনার। খেলেছেন ১০২ বল, তবে রান করলেন মাত্র ৭!

এক কথায় অভিষেক টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে অন্যরকম ব্যাটিং নিদর্শন দেখালেন কাইতানো।

Comments